জলবায়ু সচেতন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে HSTTI-তে এম্বাসেডর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

23 June 2026, 12:06:29

মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস–LAISE) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ক এম্বাসেডর প্রশিক্ষণ” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ময়মনসিংহে অবস্থিত Higher Secondary Teachers’ Training Institute (HSTTI)-এ অনুষ্ঠিত ১০ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ও স্থানীয় প্রভাব, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, অভিযোজন কৌশল, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেন। এছাড়া বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা জানান, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তাঁরা নিজ নিজ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ছড়িয়ে দিয়ে জলবায়ু সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করবেন। একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, পানি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এম্বাসেডররা পরবর্তীতে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন, প্রশমন, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শুভ্রা সরকার ও মোঃ রফিকুল ইসলাম উভয়েই ১০ দিনব্যাপী এই জলবায়ু বিষয়ক এম্বাসেডর প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত শিক্ষণীয়, ফলপ্রসূ ও উপভোগ্য বলে অভিহিত করেন। তাঁরা জানান, প্রতিটি সেশন ছিল প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তবমুখী, যা তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে হাবিব স্যারের ক্লাস এবং মাহমুদা মিতু ম্যামের উপস্থাপনা তাঁদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
প্রশিক্ষণার্থী নাদিরা আক্তার ও লিপি পণ্ডিত তাঁদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। সকল স্যার-ম্যাডামের ক্লাস তাঁদের কাছে ছিল উপভোগ্য, শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক। তাঁরা নতুন অনেক বিষয় শিখেছেন এবং জেনেছেন। প্রাণবন্ত পরিবেশে সময় খুব দ্রুত কেটে গেছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁরা আরও বলেন, এমন সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাঁদের আগে হয়নি। প্রতিটি সেশন ছিল প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য এবং প্রশিক্ষকদের উপস্থাপন ছিল অত্যন্ত চমৎকার। সবশেষে তাঁরা সকল প্রশিক্ষক ও সহকর্মীদের আন্তরিকভাবে স্মরণ করবেন বলে জানান এবং রতন স্যারকে প্রশিক্ষণে পেলে আরও ভালো লাগত বলেও মন্তব্য করেন।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষক রাবেয়া আক্তার, সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান), আলীপুর আলিম মাদ্রাসা, পূর্বধলা, নেত্রকোনা বলেন, এটি তাঁর চাকরি জীবনের অন্যতম উপভোগ্য ও ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ। তিনি সকল প্রশিক্ষকের আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং অংশগ্রহণমূলক পাঠদান পদ্ধতির প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ক্যাপ্টেন স্যার মো. সোলেমান মিয়ার দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও সার্বিক তত্ত্বাবধান প্রশিক্ষণের পরিবেশকে আরও সুন্দর ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা একবাক্যে বলেন, পরিচালক স্যার, রতন স্যার ও হাবিব স্যারের দিকনির্দেশনা এবং মাহমুদা মিতু ম্যামসহ অন্যান্য প্রশিক্ষকদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও কার্যকর করেছে। তাঁরা সকল আয়োজক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা দুর্যোগ-সহনশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষকের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষকবৃন্দ ও আয়োজকরা প্রশিক্ষণার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব, দায়িত্বশীল ও দুর্যোগ-সহনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
সনদপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে ১০ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োগের মাধ্যমে জলবায়ু সচেতন বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁদের বিশ্বাস, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।