ডিমলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজে বসতভিটা রেজিস্ট্রি: সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

20 June 2026, 11:50:45

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর ডিমলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এক অসহায় দিনমজুর দম্পতির বসতভিটার জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
২০ জুন (শনিবার) ভুক্তভোগী পরিবার বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে মানবেতর জীবনযাপনের অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার কে এম সুজা উদ্দিন পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে থাকায় গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত চলতি দায়িত্ব পালন করেন নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম।
এ সময়ের মধ্যে গত ৯ জুন ডিমলা সদর ইউনিয়নের উত্তর তিতপাড়া গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরেজা বেগম ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের বসতভিটার ৭ শতক জমি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া দাতার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জমিটির হাল (বিএস) খতিয়ান নং-১৯৮৯ এবং দাগ নং-১২। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২৬৬৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করেই দলিল সম্পাদন করেন। এতে প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা তাদের একমাত্র বসতভিটা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর আগে জমিটি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছি। জমিটির হাল রেকর্ডও আমার স্ত্রী নুরেজা বেগমের নামে রয়েছে। অথচ ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমাদের বসতভিটা অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মোটা অঙ্কের উৎকোষের বিনিময়ে দলিল লেখক, সাব-রেজিস্টার কাগজপত্র যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি:করেদেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি সত্যিই এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে দলিল বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, তবে গত ৯ জুন স্থানীয় লোকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আমার কার্যালয়ে আসেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি।
স্থানীয়দের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে বসতভিটা রেজিস্ট্রির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।