দিনাজপুরের বিরামপুরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড গ্রামাঞ্চল শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

24 May 2026, 6:21:41

মোঃ নয়ন মিয়া, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ 

দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ২৩ মে ২০২৬ দিবাগত রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে বহু বসতঘরের ঢেউটিন উড়ে গেছে,ভেঙে পড়েছে গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য পরিবার। রাতভর আতঙ্কে কাটানো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আঠারোজানি ও শিয়ালা গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের চাল উড়ে গিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আঠারোজানি গ্রামের আনিসুর রহমান (পিতা-মৃত আব্দুস সাত্তার),খোরশেদ আলী (পিতা মোঃ আজাহার আলী), এমদাদুল হক (পিতা-মৃত মজিবার), ইউনুস (পিতা মৃত মোজাম্মেল হক), রমজান আলী (পিতা-মৃত নয়ামিয়া), জহুরুল ইসলাম (পিতা মৃত আব্দুল জলিল),মকবুল হোসেন (পিতা-মৃত ফয়েজ),আব্দুল মান্নান (পিতা মফিজ), সেকেন্ড জাপান (পিতা-ফজলুল হক), আব্দুল লতিফ (পিতা আফজাল উদ্দিন) ও আঞ্জুয়ারা বেগমসহ আরও অনেকে। এছাড়াও কুচিয়ামোড় গ্রামের বেশ কিছু বাড়িঘরের ঢেউটিন উড়ে গেছে বলে জানা গেছে। একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ধানঘরা গ্রামেও ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আরিফুল ইসলাম (পিতা মোঃ মোসলেম উদ্দিন), জাহিদুল ইসলামসহ আরও অনেক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে জোতবানি ইউনিয়ন এলাকার জোতবিষু কোচপাড়া গ্রামে ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১০০টি পরিবারের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বিরামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শফিকুর রহমান দুলাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শন কালে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জরুরি আশ্রয়,খাদ্য সহায়তা ও ঘর পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা কামনা করেন। অনেকেই জানান,ঝড়ে তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে নির্মিত ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।স্থানীয়দের দাবি,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।পাশা পাশি দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে টেকসই ঘর নির্মাণ ও জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক স্থানে গাছ পড়ে সড়ক চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা পরিষ্কার ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবার গুলোর পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।