কাঠালিয়ায় সংযোগ সড়কে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ: তোপের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি
মোঃ ইমরান মুন্সি, ঝালকাঠি, জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার সোনারবাংলা বাজার ও সংলগ্ন স্কুলের মধ্যবর্তী ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রবল প্রতিবাদের মুখে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলেও, পুরো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারবাংলা ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে একবার ব্রিজটি নির্মিত হওয়ার পর তা দেবে গেলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সেই ব্রিজ ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সেই রেশ না কাটতেই এবার সংযোগ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংযোগ সড়কের কাজে ব্যবহারের জন্য অন্য স্থান থেকে প্রায় দেড় হাজার পুরোনো ও নিম্নমানের ইট আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ ইট সড়কের কাজে বসিয়েও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে পড়লে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কাজ সংশ্লিষ্টদের তোপের মুখে ফেলেন।
উত্তেজিত স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের প্রতিনিধি কাওসার আহমেদ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি উপস্থিত লোকজনকে আশ্বস্ত করে জানান, “ইট আনাটি আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা এই ইটগুলো আর ব্যবহার করব না।”
তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে ঠিকাদার মো. তরিকুল ইসলাম বুলবুলের কণ্ঠে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাস্তার কাজে নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো ইট ব্যবহারের সুযোগ আছে।” যদিও স্থানীয়দের দাবি, এই ইটগুলো ওই রাস্তার পুরোনো ইট নয়, বরং অন্য কোনো স্থান থেকে এখানে এনে ফেলা হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের সময়ও আমরা চরম অনিয়ম দেখেছি, যা পরে মেরামত করতে হয়েছে। এখন সংযোগ সড়কেও নিম্নমানের ইট দিয়ে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। সঠিকভাবে কাজ না হলে অচিরেই সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।”
সচেতন মহল মনে করছেন, কাজের মান তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নজরদারি প্রয়োজন। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্পে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত নিম্নমানের ইট সরিয়ে মানসম্মত ইট দিয়ে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
