অবৈধ বালু উত্তোলনে ক্ষতবিক্ষত গড়াই তীররক্ষা বাঁধ, আতঙ্কে খোকসার নদীপাড়ের মানুষ

11 May 2026, 8:47:46

তানভীর আজাদ স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া:

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গণেশপুর এলাকায় গড়াই নদীর ভাঙন ঠেকাতে নির্মিত সরকারি তীররক্ষা বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্থাপিত জিও-ব্যাগ কেটে ফেলা এবং ঢাল নষ্ট করে বালু পরিবহনের রাস্তা তৈরি করায় কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এভাবে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ায় আসন্ন বর্ষায় নদী ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এতে আশপাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ, হাট-বাজার এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ‘গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কুষ্টিয়া ওঅ্যান্ডএম বিভাগের তত্ত্বাবধানে গণেশপুর এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
গত ৩ মে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পাউবোর কর্মকর্তারা দেখতে পান, বাঁধের অ্যাপ্রন অংশে ফেলা জিও-ব্যাগ কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া বাঁধের স্লোপ কেটে বালুবাহী যান চলাচলের জন্য অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারি অবকাঠামোর গুরুতর ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারজনকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা হলেন গণেশপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম, রাজাপুর গ্রামের জুয়েল আহমেদ, আজইল গ্রামের জহির উদ্দিন এবং একই গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুর রহমান খোকসা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুল রহমান বলেন, “নদী ভাঙন রোধে সরকারের বড় বিনিয়োগকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যক্তিস্বার্থে বাঁধ কাটার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।