হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত ধানচাষিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে জাতীয় কৃষক সমিতির মানববন্ধন ৯ মে

7 May 2026, 5:13:16

দেওয়ান মাসুকুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ মে ২০২৬ :

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় সাম্প্রতিক অকাল বন্যা, অতিবৃষ্টি এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি বোরো ধানের ওপর ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে বিনষ্ট হয়েছে। এতে করে লাখো কৃষক পরিবার তাদের একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

এর প্রেক্ষিতে আগামী ৯ মে ২০২৬, শনিবার বিকাল ৪টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে অবিলম্বে হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ ধানচাষীদের নগদ অর্থসহায়তা প্রদান, সংগৃহকৃত পাকা ধান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারকে ৬ মাসের খাদ্য সহায়তাসহ বিনামূল্যে গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহ করার দাবীতে জাতীয় কৃষক সমিতির উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

আন্দোলনের এ কর্মসূচি সফল করার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যোতিশংকর ঝন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মানিক। এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, হাওরাঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে উৎপাদিত বোরো ধান জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে অকাল বন্যার পানিতে অনেক জমির ধান কাটার আগেই তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও এখন তাদের পক্ষে সেই ঋণ পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে কয়েকটি জরুরি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, জরুরি ভিত্তিতে নগদ আর্থিক সহায়তা, এবং আগামী মৌসুমে চাষাবাদ অব্যাহত রাখতে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ। এছাড়া কৃষিঋণগ্রস্তদের ঋণ মওকুফ বা সহজ শর্তে পুনঃতফসিল করার দাবিও জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই বাঁধ নির্মাণ, পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য সরকারের দ্রুত, কার্যকর এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত ধানচাষিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও সমাবেশ সফল করার আহবান জানিয়ে জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন, “প্রতিবছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচাতে সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।