দিনাজপুরের বিরামপুরে কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধ গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম,শ্লীলতাহানির অভিযোগ
মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নের আটারোজানি গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ জুলেখা বেগম (৪৫) বিরামপুর থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করেন,গত ২৬ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পারিবারিক বিরোধ ও কিস্তির টাকা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামের মৃত নয়া মিয়ার ছেলে মোঃ মরফুদুল হক (৪৯) এবং মহিলা বহুমুখী শিক্ষাকেন্দ্র (এমবিএসকে) বিরামপুর শাখার মাঠকর্মী মোঃ মাজেদুল ইসলামকে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির উঠানে একা অবস্থান করছিলেন। এসময় ১নং আসামি মরফুদুল হক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট শুরু করা হয়। একপর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এমনকি প্রকাশ্যে কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়,পরে ২নং আসামি মাজেদুল ইসলামের প্ররোচনায় ধারালো ধান কাটার কাচি এনে জুলেখা বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার হাত,মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে পাঁজরেও কোপ মারার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাণভয়ে ঘরের ভিতরে আশ্রয় নিলেও রক্ষা পাননি তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে,আসামিরা ঘরে ঢুকে শোকেসের ড্রয়ারে থাকা মেয়ের পাঠানো নগদ ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এমন নৃশংস হামলা,শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
