তালতলীতে ফুটবল খেলার মাঠে নির্মম ঘটনা: গরু পালানোর ‘অপরাধে’ শিশু খেলোয়াড়কে পিটিয়ে হত্যা
রনি মল্লিক বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার তালতলী উপজেলার হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলা চলাকালীন একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনায় ১৪ বছরের শিশু হযরত আলী খলিফা নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে। খেলার বল গরুর কাছে ছিটকে পড়ায় গরুটি ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বখাটে যুবক মুছা ঘরামী ও তার সহযোগীরা শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার দুপুরে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুসারে, শনিবার বিকেলে হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলছিল স্থানীয় শিশু-কিশোররা। হযরত আলী ওই খেলায় গোলকিপারের দায়িত্বে ছিল। খেলা চলাকালীন কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিম ঘরামীর ছেলে মুছা ঘরামী গরু নিয়ে মাঠের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় খেলার বল গরুর কাছে ছিটকে পড়লে গরুটি আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে পালাতে শুরু করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুছা ঘরামী ও তার সহযোগীরা শিশু হযরত আলীর উপর চড়াও হয় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। মারধরের পরপরই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের অর্থাভাবের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরদিন রবিবার সকালে তার চাচা ইউনুস খলিফা তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে শিশু হযরত আলী মারা যায়।
নিহত হযরত আলী খলিফা তালতলী উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের মৃত ইদ্রিস খলিফার ছেলে। তার মা আছিয়া বেগম হাসপাতালে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আহাজারি করে তিনি বলেন, “মোর বাইচ্চা থাহার আর কিচুই রইলো না। আলহে পোলাডা হেডারেও মুছা ও হ্যার লোকজন পিডাইয়া মাইর্যান হালাইছে। মুই অ্যাইয়ার বিচার চাই।”নিহতের চাচা ইউনুস খলিফা জানান, “রহিম ঘরামীর ছেলে মুছা ও তার লোকজন আমার ভাইয়ের ছেলেকে মারধর করেছে। হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে সে মারা গেছে। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সদ্যসাচী দাশ সানি বলেন, “হযরত আলী পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আগামীকাল (সোমবার) ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মুছা ঘরামী ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
