বাগেরহাটে দুর্ধর্ষ ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :
বাগেরহাট সদর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামে বসতবাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত চক্রের সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাট সদর থানার ৬ নম্বর যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আতিয়ার রহমানের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই রাতে মুখোশ পরা তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে অস্ত্রের মুখে শেখ আতিয়ার রহমান ও তাঁর স্ত্রীর হাত বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। একপর্যায়ে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। লুণ্ঠিত মালামালের মোট মূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে শেখ ওমর ফারুক বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ১৪ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৮। পেনাল কোডের ৩৯২ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নড়াইলের লোহাগড়া থানা এলাকা থেকে মো. হাসিব শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত ১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
একই দিন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মো. ইনামুল বিশ্বাস ওরফে এনা (৩৭)-কে। তাঁর হেফাজত থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
এরপর ৫ নভেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ঘটনার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয়কে (৩১)। তাঁর ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে লুণ্ঠিত ৩০ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হৃদয়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসংক্রান্ত মোট নয়টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত হৃদয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার কেনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আব্দুর রশিদ (৩২) নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে গলিত অবস্থায় ২ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার চার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয় হিসেবে রয়েছে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
