নেত্রকোনায় পারিবারিক চাপে প্রেমের বিয়ের বিচ্ছেদ,৮ ঘন্টার ব্যবধানে দুজনের লাশ
মোঃমিনারুল ইসলাম(জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা)
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে। এরপর পারিবারিক চাপে বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদের ২০ থেকে ২৫ দিনের মাথায় মাত্র আট থেকে নয় ঘণ্টার ব্যবধানে আত্মহতা করলেন দুজনেই।
ঘটনাটি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার আটবাড়ি গ্রামের মো. সাকিব মিয়া (২৩) ও তাঁর সাবেক স্ত্রী গাজীপুরের শ্রীপুরের মুক্তা আক্তার (১৯)।
আজ মঙ্গলবার সকালে মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামে নিজ ঘরের বারান্দা থেকে সাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে আত্মহত্যা করেন মুক্তা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকিব আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে। দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এর মধ্যে মামাতো বোন মুক্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান সাকিব। প্রায় তিন মাস আগে বিয়ে করেন তাঁরা। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারিক কলহ শুরু হয়। পারিবারিক চাপে ২০ থেকে ২৫ দিন আগে মুক্তাকে তালাক দেন তিনি। এরপর মুক্তা গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার বাড়িতে চলে যান।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় শ্রীপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মুক্তা। পরে তাঁর বাবা বাবুল মিয়া পুলিশকে না জানিয়ে মেয়ের মরদেহ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ সেখানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে মুক্তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আজ সকালে নিজ ঘরের বারান্দায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সাকিবকে। পুলিশের ধারণা, গতকাল রাতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, প্রেম, বিয়ে ও পারিবারিক চাপে বিচ্ছেদের পর হতাশা ও মানসিক চাপ তাঁদের এমন পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়ে থাকতে পারে।গাগলাজুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী লুৎফর রহমান বলেন, সাকিব দিনমজুর ছিলেন। কখনো মাছ ধরতেন, কখনো কৃষিকাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি আরও একটি বিয়ে করেছিলেন। সম্প্রতি ওই স্ত্রীকে তালাকও দিয়েছেন। মেয়েটি গতকাল মারা গেছেন। আজ সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিয়ে ও বিচ্ছেদের সঙ্গে এই মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল আওয়াল বলেন, দুজনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আলামত দেখে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচ্ছেদের কারণে হতাশা থেকে সাকিব এমনটি করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মুক্তা শ্রীপুরে তাঁর বাবার কাছে ছিলেন। গতকাল সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান তিনি। ঝামেলার আশঙ্কায় তাঁর বাবা সেখানকার পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। অন্যদিকে আজ সকালে সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও বলেন, একই সময়ে দুজনের মরদেহ থানায় আনা হয়। পরে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুক্তার মৃত্যুর বিষয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশকে অবহিত করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
