আধুনিক ডাকসেবায় বদলাচ্ছে কয়রা পোস্ট অফিস, গুরুত্ব বাড়ছে স্পিড পোস্ট ও পার্সেলে

9 October 2026, 1:19:51

ফরহাদ হোসাইন,কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ

একসময় ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই চিঠির আশায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেন মানুষ। দূরে থাকা স্বজনের চিঠি ঘিরে পরিবারে তৈরি হতো আনন্দ ও আবেগের মুহূর্ত। সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তারে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমলেও খুলনার কয়রা পোস্ট অফিসে থেমে নেই কার্যক্রম। আধুনিক ডাকসেবা, স্পিড পোস্ট, পার্সেল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন ব্যস্ততা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস। দিবসটি সামনে রেখে কয়রার ডাকসেবার বর্তমান চিত্রে দেখা যায়, প্রযুক্তির অগ্রগতিতে যোগাযোগের ধরন বদলালেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বিভিন্ন সামগ্রী আদান-প্রদানে ডাকঘরের গুরুত্ব এখনও রয়েছে।

স্থানীয় ডাকসেবাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের হাত ধরে বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া সেই চিঠির অপেক্ষায় থাকতেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার অনেক কমে গেছে।

কয়রার ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা সফেদ আলী অতীতের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন, ডাকঘরের কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে চিঠি পৌঁছে দিতেন। চিঠি এলে পরিবারের সবাই মিলে তা পড়তেন। আত্মীয়-স্বজনের খবর জানার জন্য চিঠিই ছিল অন্যতম ভরসা। এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুহূর্তেই কথা বলা যায়। তাই আগের মতো চিঠির প্রয়োজন হয় না।

ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমলেও ডাকঘরের সেবা বন্ধ হয়ে যায়নি। বর্তমানে পার্সেল, রেজিস্ট্রি ডাক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানোর কাজে ডাকসেবা ব্যবহার করছেন মানুষ। অনলাইনভিত্তিক কেনাবেচার প্রসারের ফলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও ডাকসেবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কয়রা উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত উপজেলা হওয়ায় এখানকার মানুষের কাছে ডাকসেবার গুরুত্ব এখনও আলাদা। সব এলাকায় সমানভাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য নয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিভিন্ন সামগ্রী আদান-প্রদানে ডাকঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কয়রা উপজেলা পোস্টমাস্টার সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে ডাকসেবার ধরনও বদলাচ্ছে। প্রচলিত ডাকসেবার পাশাপাশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে স্পিড পোস্ট সেবা চালু থাকায় স্বল্প খরচে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের কাছে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে মানুষ আবারও পোস্ট অফিসে সেবা নিতে আসছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাকসেবার পরিধি বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের কাছে দ্রুত ও সহজে সেবা পৌঁছে দেওয়া গেলে ডিজিটাল যুগেও ডাকঘরের গুরুত্ব ধরে রাখা সম্ভব।

চিঠির খামে হয়তো আগের মতো আবেগ জমে না, ডাকপিয়নের অপেক্ষায় কাটে না দীর্ঘ দুপুর। তবে স্পিড পোস্ট, পার্সেল ও আধুনিক ডাকসেবার মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কয়রা পোস্ট অফিস। বদলে গেছে ডাকঘরের ব্যস্ততার ধরন, বদলেছে সেবার মাধ্যম; কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে ডাকসেবার গুরুত্ব এখনও রয়ে গেছে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।