ভান্ডারিয়ায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীকে মারধর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ৩
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সজিব (২৫), মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৫) ও মারিয়া আক্তার (ছদ্মনাম)। এদের মধ্যে সজিবের পিতা মো. ফখরুল ইসলাম মিলন চাপরাশি এবং রনির পিতা আমজাদ হোসেন। সজিব ও রনি উভয়েই ভাণ্ডারিয়া থানার উত্তর-পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাণ্ডারিয়া বাজারসংলগ্ন রিজার্ভ পুকুরপাড়ে ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র রায়কে (৩৪) একটি সংঘবদ্ধ চক্র কথিত হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে। সেখানে তাকে জিম্মি করে মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই হানি ট্র্যাপ চক্রের মূল তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুরো ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, হানি ট্র্যাপের মতো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কাউকে ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ, জিম্মি করা বা অর্থ আদায়কারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
