মনোহরদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ মাসে ৫৭.৩২ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার, ২১ মামলায় কারাদণ্ড-জরিমানা
নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মনোহরদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ধারাবাহিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে তিন মাসে অবৈধভাবে দখল করা ৫৭.৩২ শতাংশ সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ২১টি মামলায় আসামিদের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি অনুমোদনহীন বা অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে ভূমি প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ১৮টি মামলায় ১৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ২ হাজার ৬৭০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভেজালবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কসমেটিক্স ও ওষুধ সংক্রান্ত ২টি মামলায় মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া দণ্ডবিধির আওতায় পরিচালিত ১টি মামলায় একজন আসামিকে ৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায়ও অভিযান চালিয়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর আওতায় উপজেলার বড়চাপা ও গোতাশিয়া এলাকায় আদালতের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলে থাকা ৫৭.৩২ শতাংশ খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সরকারি জমি পুনরায় যাতে কেউ অবৈধভাবে দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি জমি দখল, মাদক, ভেজালসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া বলেন, “উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাদক ও ভেজালের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এমন ধারাবাহিক কার্যক্রমে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
