স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ

20 September 2026, 10:09:22

মাসুদ রানা মনি লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নং ভোলা কোট ইউনিয়নের ৫০হাজারেরও অধিক জনগণ এখন স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত। দীর্ঘদিন যাবত ইউনিয়নের একমাত্র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে ডাক্তার, ভিজিটর, ফার্মাসিস্ট, পিয়ন, দারোয়ান, সুইপার কিছুই নেই। ফলে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ইউনিয়নের মানুষ। দীর্ঘদিন যাবৎ মানুষজন না থাকার কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখন মাদক সেবীদের আখড়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, ভিজিটর, পিয়ন, দারোয়ান, সুইপার সহ মোট ৬ টি পদ থাকলেও একটি পদেও কোন লোকজন নাই। ফলে দীর্ঘদিন থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকাবাসী জানান বহু আবেদন নিবেদন করার পরও ডাক্তার,ফার্মাসিস্ট ভিজিটর কিছুই আমরা আনতে পারি নাই।
জানা গেছে ৫০ হাজার জনগণ অধ্যুষিত এই ইউনিয়নটিতে এটিই একমাত্র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র। যেখানে আগে প্রতিদিন শত শত লোক স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সুপরামর্শ পেত এখন সেটি কেবলমাত্র দালান সর্বস্ব। দীর্ঘদিন থেকে লোকবল না থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি হয়ে উঠেছে মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন যাবত লোকজন না থাকার কারণে,সন্ধ্যা নামার পরপরই এলাকাটি হয়ে ওঠেছে মাদক সেবীদের অভয়ারণ্য এবং একশ্রেণীর পতিতাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। রাত্রি নামার সাথে সাথে এখানে মাদক সেবীরা, মদ,গাঁজা, ইয়াবা পানে ব্যস্ত হয়ে ওঠে সারারাত চলে অসামাজিক কার্যকলাপ।স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে ডাক্তার, ভিজিটর,ফার্মাসিস্ট থাকার জন্য বেশ কয়েকটি কোয়ার্টার থাকলেও মূলত এগুলিই এখন মদ গাজা ও অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল ভবনটিতে বিশাল তালা ঝুলছে রোগীরা ওষুধ নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে।স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির অভ্যন্তরে ঝোপ-ঝাড় ঘাস লতা পাতায় ভরে আছে অবস্থা দেখে মনে হবে বনের ভিতর কোন একটি পাকা দালানঘর দাঁড়িয়ে আছে।
এ ব্যাপারে ভোলাকোট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মজুমদার জানান এই ইউনিয়নে ৫০ হাজারের অধিক জনগণ বাস করে এবং স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দুটি হল এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অনেকদিন থেকে ডাক্তার, ভিজিটর, ফার্মাসিস্ট না থাকায় এই ইউনিয়নের জনগণ দারুন স্বাস্থ্য কষ্টে ভুগছেন। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে একাধিক বার জানিয়েছি। উপজেলা সদর হতে এই ইউনিয়নটির দূরত্ব ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার তাই ইচ্ছা করলেও উপজেলা সদর গিয়ে এই ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে না। তিনি অকপটে স্বীকার করেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখন মাদক সেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা,ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ জানান, এরকম আরো কয়েকটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে যেখানে কোন ডাক্তার ভিজিটর,ফার্মাসিস্ট কিছুই নেই। নিয়োগ না থাকার কারণে জনবলের অভাবে আমরা লোক দিতে পারতেছি না।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২২ জন ডাক্তারেরস্থলে আছে মাত্র ৭ জন। জনবল নিয়োগ হওয়ার পর এসব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোক দেওয়া হবে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।