ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত হতে পারলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা উড়বে-পীর সাহেব চরমোনাই
এইচ এম হাছনাইন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
“আমরা যদি ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত হতে পারি, তাহলে আমাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়বে।”
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সংগ্রামী আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
২৮ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার, দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক শহীদ ওসমান হাদী চত্বর, শাহবাগে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সারাদেশের বিভিন্ন শাখার ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তোমাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তোমরা নিজেদের তৈরি করো। দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।”
তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। কিন্তু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আদর্শভিত্তিক ছাত্র সংগঠন। অন্যান্য অনেক ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও নানা ধরনের অপকর্মের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শকে ধারণ করে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবন হচ্ছে নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদেরকে নিজেদের আদর্শিকভাবে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়; এটি একটি আদর্শিক আন্দোলনের প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এখান থেকে এমন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, যারা সততা, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা যদি নিজেদেরকে ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত করতে পারি, তাহলে আমাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়বে।
গণভোট ও জুলাই সনদের অঙ্গীকার পূরণের আহ্বান
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “আপনারা গণভোটের প্রথা প্রতিষ্ঠা করুন এবং জুলাই সনদের যে অঙ্গীকার করে এসেছেন, সে অঙ্গীকার পূরণ করুন। যদি তা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের জনগণ আপনাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না।”
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ছাত্র সমাবেশে বক্তারা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর দীর্ঘ পথচলা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ছাত্রসমাজের মধ্যে নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে ছাত্রসমাজ থেকেই। তাই শিক্ষার্থীদেরকে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও আদর্শিক চেতনায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ছাত্রসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা অর্জন এবং মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিন আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সংগ্রামী সভাপতি শেখ ফজলুল করিম মারুফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সভাপতি ও ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল করিম আকরাম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ-এর সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এ বি এম জাকারিয়া এবং ইসলামী আইনজীবী পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হানিফ মিয়া।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, হোসাইন ইবনে সরোয়ার, ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম খলীলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
