অদৃশ্য প্রভাবের ইঙ্গিতে নাগেশ্বরীতে গোশত বিক্রি স্থগিত, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
মোঃ মিনহাজুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার একটি বাজারে গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, অদৃশ্য চাপ ও প্রভাবের কারণে ট্রেড লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গোশত ব্যবসায়ীদের গরুর গোশত বিক্রি করতে দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীরপাঠ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে গরুর গোশত বিক্রি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার গোশত ব্যবসায়ী সালাম ও সিদ্দিক এবং ডাকনীরপাঠ মসজিদ মার্কেটের মালিক আজিজুল হককে নাগেশ্বরী থানায় ডেকে নিয়ে গরুর গোশত বিক্রি না করার জন্য বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বাজারে গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ থাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আশপাশে কোনো বিকল্প দোকান না থাকায় তাদের কয়েক কিলোমিটার দূরের বাজারে গিয়ে গোশত কিনতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বাজারে গরু জবাইয়ের সুযোগ থাকলে তারা সহজেই প্রয়োজনীয় গোশত সংগ্রহ করতে পারতেন।
উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ডাকনীরপাঠ বাজার এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস, যার মধ্যে প্রায় চার হাজারই মুসলিম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চাপের কারণে এখানে গরু জবাই ও গোশত বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে কিছু প্রভাবশালীর মদদে সেই ধারা এখনো বহাল রয়েছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কেট মালিক নিজেই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে গরুর গোশত বিক্রি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তবে এ দাবি অস্বীকার করে মার্কেট মালিক আজিজুল হক বলেন, থানায় গিয়ে তিনি দেখেন বৈঠকের জন্য অনেক লোক জড়ো হয়েছে। পরে উপজেলা বিএনপির নেতা গোলাম রসুল রাজা সেখানে এসে একপক্ষের বক্তব্য শোনার পর গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ রাখার বিষয়ে মত দেন।
অন্যদিকে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, “এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে সবার সম্মতিক্রমেই গরুর গোশত বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।”
ডাকনীরপাঠ বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে জুমার খুতবায় আলোচনা হয়েছে। মুসল্লিদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—একই এলাকায় অন্য ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার পালন করতে পারলে মুসলিমরা কেন গরুর গোশত কিনতে পারবে না।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য গয়ানাথ এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সকল সম্প্রদায়ের অধিকার ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সমস্যার সমাধান করা যায়।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
