রাজউকের নিকুঞ্জে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য

রাজউকের নিকুঞ্জে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের  নিকুঞ্জ ২ আবাসিক এলাকায় খাজা আব্দুর রহমান গং নামে এক ভূমিদস্যুর আবির্ভাব ঘটেছে। খাজা আব্দুর রহমান গং নিকুঞ্জ ২ এর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে লীজ নেয়া গ্রহীতাদের জায়গার উপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ ঢাকা সিভিল পিটিশন অব লিভ টু আপিল নং-২২৪৬/২০১৯ স্টে তাং ৩০/০২/২০২০ লেখা কাগজের স্টিকার লাগিয়ে রাখে, রাতের অন্ধকারে লাগিয়ে রেখেই ক্ষান্ত হচ্ছেনা, প্লট মালিকদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং একটা সমঝোতার প্রস্তাব দেয়, ওই প্রস্তাবে রাজি না হলে একেকজন প্লট মালিককে প্রতিটি প্লট বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে উক্ত চাঁদা না দেওয়া হলে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে। সম্প্রতি নিকুঞ্জ ২ আবাসিক এলাকার ২১/সি ও ২১/ডি নং প্লট মালিকের নামে ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে ভূমিদস্যু খাজা আব্দুর রহমান গং, তার সহযোগী হিসেবে ছিল গজনবী টিপু মোঃ সোহেল সহ অজ্ঞাতনামা আরো দশ বারোজন। ভুক্তভোগী প্লট মালিক উপায়ান্তর না পেয়ে খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি করে, সাধারণ ডায়েরি নং ৯৪৩ তারিখ ২৪/০৭/২০২০ইং। এছাড়াও মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে ঢাকা প্লট মালিকের পক্ষে দুটি মামলা দায়ের করা হয় যার একটির বাদী মোঃ আনোয়ার হোসেন মামলা নং ২২০/ ২০২০এবং অপরটির বাদী মো. হাছানুর রহমান চৌধুরী যার নং ১৮৮/২০২০। ভুক্তভোগী নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার এক নং রাস্তার ২১/ডি নং  প্লটের লীজ গ্রহীতা ডাক্তার জোসনা আরা বেগম এর থেকে ২৫/০৪/২০১৯ইংসালে দলিল নং  ৪১৮৮ স্মারক নং ৬৫৪৯ তারিখ ০১/০৮/২০১৯ সালের প্রেক্ষিতে লীজ গ্রহণ করেন।২১/সি নংটি ও পূর্ববর্তী লীজ গ্রহীতার নিকট থেকে নেয়া।  রাজউকের সহকারি পরিচালক এস্টেট ও ভূমি ২ মোঃ আসাদুজ্জামান বিশ্বাস স্বাক্ষরিত অনুলিপির মাধ্যমে জানা যায় মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রেকর্ডপত্রে রেকর্ডভুক্ত ও নামজারি করা হয়। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় যে নিকুঞ্জ ২ এর খালি প্লটে খাজা আব্দুর রহমান গং কাগজের স্টিকার লাগিয়ে প্লট গ্রহীতাদের হয়রানি করছে এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবী করছে, চাঁদা না পেলে উল্টো প্লট গ্রহীতাদের নামে ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করছে। এ বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন উপদেষ্টা এবিএম রুহুল আমিন ভূইয়া স্বাক্ষরিত অনুলিপিতে জানা যায় ২১/সি ও ২১/ডি প্লটের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ বিষয়ে কোনো মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন নাই। অত্র নথির ১৩৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত মহামান্য আপিল বিভাগের ২২৬৪/২০১৯নং আপিলটি অত্র প্লট বিষয়ে মোকদ্দমা নয়। ১৩৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত অভিযোগ ব্যবহার করিয়া শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান কে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। অত্র আবাসিক এলাকার  প্লটগুলি সরকারের ১৩৮/১৯৬১-১৯৬২ নং এল এ কেস মুলে সরকারের হুকুম দখলের সম্পত্তি। রাজউকের লে-আউট প্ল্যান এর ২১/সি ও ২১/ডি নং প্লট লিজ দলিল মূলে বরাদ্দকৃত রাজউকের প্লট। ১৩৩ নং অনুচ্ছেদের মোকদ্দমা ও আপিল হুকুমদখলি রাজউকের মোকদ্দমা নয়। উক্ত মোকদ্দমায় দেখা যায় খাজা আব্দুর রহমান গং-এর বিআরটিসির সহিত মোকদ্দমা রয়েছে তাতে উক্ত প্লট দুটির কোন তথ্য নাই। রাজউকের  নিকুঞ্জ -২ আবাসিক এলাকার কোন প্লট, যদি কোন অবৈধ দখলদারের দখলে  যেয়ে থাকে, তবে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে আইনগত কোনো বাধা নাই। ভুক্তভোগী প্লটলীজ গ্রহীতাগন  উক্ত ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ খাজা আব্দুর রহমান গংদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি তারা তা সমর্থন করেন এবং এই ভূমিদস্যুদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আকুতি জানান।