লক্ষ্মীখালীস্থ সুতার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পৌষ পার্বন উৎসব

লক্ষ্মীখালীস্থ সুতার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পৌষ পার্বন উৎসব

শ্রীধাম লক্ষ্মীখালীস্থ লক্ষ্মীখালী সুতার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মহোৎসব। গ্রামবাসি পৌষ মাসের শেষে, গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সকল জ্বরা-ব্যাধি কাটিয়ে উঠতে সপ্তাহব্যাপি শ্রীহরি নামসংকীর্তন করে থাকেন। সেই ধারা বজায় রেখে ৭ দিনের কীর্তন শেষে গতকাল ১ লা মাঘ মহোৎসব করেছেন। বিশাল গ্রামের সকলে একত্রিত হয়ে মিলেমিশে সুসম্পন্ন করেছেন এ উৎসব। ছোট, বড়, ধনি, মানি, বিদ্যান সকলেই মিলেমিশে একাকার হয়েছিলেন পরম করুময়ের নাম-গানে। এ উৎসব আজ ২ রা মাঘ মীন মহোৎসব করে সমাপ্ত করা হবে। উৎসবে ভক্তিগীতি, আলোচনা ও উর্দন্ড কীর্তনের প্রধান্য ছিল। সব শেষে ছিলো প্রসাদ বিতরন। লক্ষ্মীখালী গ্রামবাসি সহ দুরদুরন্ত থেকে আগত ভক্তবৃন্দ একত্রিত হয়ে উৎসব শেষে অন্ন প্রসাদ গ্রহন করেছেন।

এ মহতি কর্মযজ্ঞে উপস্থিত ছিলেন শ্রীধাম লক্ষ্মীখালীর গদিনসীন শ্রী সাগর সাধু ঠাকুর, গ্রামের বর্ষিয়ান ধর্মপ্রান শ্রীমৎ জ্যোতিন্দ্রনাথ গোসাই, মতুয়া দলপতি শ্রীমৎ সুভাষ চন্দ্র হালদার, শ্রী উপেন্দ্রনাথ বৈরাগী, শ্রী ক্ষীতিশ চন্দ্র গাইন, শ্রী নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল, শ্রী সমিরেন্দু মজুমদার সহ আরো অনেক জ্ঞানীজন গুণিজন। শ্রীমৎ রাজেন্দ্রনাথ গোসাই এর উত্তরসূরী শ্রীমৎ তাপস গোসাই, শ্রীমৎ পুলিন গোসাই এর উত্তরসূরী শ্রীমৎ পরান গোসাই, শ্রীমৎ পঞ্চানন গোসাই এর উত্তরসূরী শ্রীমৎ অনিল গোসাই, ধনখালি গোসাই বাড়ির উত্তরসূরী শ্রীমৎ মনোজিৎ গোসাই উপস্থিত থেকে মহোৎসব প্রানবন্ত করে তোলেন। শ্রীমৎ রাইচরন হালদারের বংশধর শ্রী কৃষ্ণেন্দু হালদার ও শ্রী নিখিল হালদার, শ্রীমৎ ত্রয়োলক্ষ্যনাথ ঢালীর বংশধর শ্রী দেবদুলাল ঢালী, শ্রী উৎপল ঢালী ও শ্রী পল্লব ঢালী, শ্রীমৎ যনার্ধন গোসাই এর বংশধর শ্রী উজ্জ্বল মন্ডল ও শ্রী সবুজ মন্ডল সার্বিক দায়িত্বের অংশিদারিত্ব করেছেন।

অনুষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন শ্রীশ্রী গোপালচাঁদ যুব সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শাখা সংগঠন। তারমধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি শ্রী সুকল্যান হালদার, সভার সঞ্চালক ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী পংকজ মন্ডল এবং সার্বিক তদারকি করেন সাধারন সম্পাদক শ্রী লিটন মল্লিক।

মহোৎসব সূত্রে বহু গ্রামের মতুয়া তথা সূক্ষ্ম-সনাতনে বিশ্বাসি প্রায় হাজার খানেক মানুষ একত্রিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে। এ এক পরম পাওয়! এ সকল ক্ষেত্রে কিছু মানুষ পিছিয়ে থাকে সর্বদা। কিন্তু এই উৎসবে হাজারে একজন ভিন্ন ৯৯৯ জনেই মনের টানে অংশগ্রহন করেছেন বলে দেখা গিয়েছে।

গ্রামবাসির প্রত্যাশা বারবার ফিরে আসুক এ উৎসব, আনন্দধারায় ভরে উঠুক মতুয়া ভুবন।