বেতন বৈষম্য নিরসন ও বৃদ্ধি সহ ৬ দফা দাবীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন

বেতন বৈষম্য নিরসন ও বৃদ্ধি সহ ৬ দফা দাবীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন

এইচ এম জাকির ঃ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য নিরসন অসংগতি দূরীকরণ এবং বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে প্রজাতন্ত্রের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড ভুক্ত কর্মচারীদের চলমান বেতন বৈষম্য ও অসংগতি দূরীকরণ এবং বেতন বৃদ্ধি সহ ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন পর্যায়ের বৈষম্য ও অসঙ্গতির চিত্র পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপনসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সংবাদ সম্মেলনের সভাপতি  মোঃ হেদায়েত হোসেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান ভূঁইয়া সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আনোয়ার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মোঃ লুৎফর রহমান খান কার্যকরী সভাপতি মোঃ আবদুল হাই মোল্লা ও শরীফ আবুল খায়ের মহানগর কমিটির সভাপতি মোঃ হারুন-অর-রশিদ কার্যকরী সভাপতি মোঃ ফরিদুর রহমান কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ মোঃ মহসীন ভূঁইয়া ও অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারউদ্দিন ও আব্দুল হালিম। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকতার হোসেন বলেন এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে,অনেক ক্ষেত্রে অল্প কিছু সাফল্য এসেছে, যা প্রত্যাশার চাইতে অনেক কম,এ বৈষম্য থেকে অবসানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন ইতিমধ্যে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছিল,যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও পরিবেশিত হয়েছে।১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় বেতন স্কেলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য  ১০ গ্রেডের একটি সুষম বেতন কাঠামো উপহার দেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বরণের পর ১৯৭৭ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে ১০টি গ্রেডের   পরিবর্তে ২০টি গ্রেডের বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করেন, সেখান থেকে বৈষম্য শুরু হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে বৈষম্য দূরীকরণে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট আবেদন নিবেদন করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টি উপলব্ধি করে, এ বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন, দুর্ভাগ্য যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরিত প্রস্তাবটি আজও আলোর মুখ দেখেনি। অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সীমিত আয়ের  কর্মচারীরা সংসারের নুন্যতম ব্যয় বহনে দিশেহারা। এই অবস্থা হতে উত্তরণের কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, অতি দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা জননেত্রী  শেখ হাসিনা তার নিকট যদি  কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা যায়, তাহলে অবশ্যই তিনি কর্মচারীদের ন্যায় সঙ্গত দাবি মেনে নিয়ে আসন্ন ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের যুক্তিসঙ্গত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করবেন। দাবি সমূহ হলোঃ(১) ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্তৃক নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেলে ১০ গ্রেড বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে হবে। নবম পে কমিশন গঠন এবং বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের কমপক্ষে ২০% বেতন  বদ্ধি করতে হবে,শতভাগ পেনশন প্রদান,স্বেচ্ছায় অবসরের বয়সসীমা ২০ বছর নির্ধারণ করতে হবে।(২) সচিবালয় ও সচিবালয়ের বাহিরে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে।(৩) টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড ও বিভিন্ন ভাতা সহ সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান ও বিভিন্ন ভাতা যৌক্তিকভাবে বর্তমান সময় উপযোগী করে বৃদ্ধি করতে হবে। (৪) বিনা সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা প্রদান,গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, সামাজিক ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা ভাতা প্রদান এবং রাজউকের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে কর্মচারীদের সংখ্যার আনুপাতিক হারে কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। (৫)১৭ তম গ্রেড কে সাবেক ৪র্থ শ্রেণী হিসেবে চিহ্নিত করে জারিকৃত পরিপত্র অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।(৬) কল্যাণ তহবিলের অর্থ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতঃ কর্মচারীগণের সন্তানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে,একই সাথে চাকুরীরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য অফিসার্স ক্লাব,বিএমএ, কেআইবি এর মত রাজধানীতে কর্মচারী কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে হবে।