সুস্থ সুন্দর জীবনের অধিকারই হোক মে দিবসের অঙ্গীকার - আকতার হোসেন

সুস্থ সুন্দর জীবনের অধিকারই হোক মে দিবসের অঙ্গীকার – আকতার হোসেন

এইচ এম জাকির ঃ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পহেলা মে উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের র‍্যালি পূর্ব সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকতার হোসেন বলেন সুস্থ সুন্দর জীবনের অধিকারই হোক এবারের মে দিবসের অঙ্গীকার। তিনি বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের সময়, তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন।তার কারণে তাকে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন  বহিষ্কার করেছিলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন বলেছিলেন আমি যদি কোনদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি তাহলে তোমাদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে তোমাদের বেতন বৃদ্ধি করে দেবো।পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু তাঁর কথা রেখেছিলেন এবং কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ১২ ই জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর  দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন পহেলা মে তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১০ গ্রেডের একটি যুগোপযোগী বেতন পদ্ধতি চালু করেছিলেন। ওই সময় সরকারি কর্মচারীরা ভালো ভাবে জীবন যাপন করছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এদেশে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার, তারপর থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা অনিশ্চিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে, এরশাদ সরকারের আমলে ১০ গ্রেডের পরিবর্তে ২০ গ্রেড করা হয়েছে, পরে বিএনপি’র আমলে সচিবালয়ের ভিতরের কর্মচারী এবং বাহিরের কর্মচারীদের মধ্যে একটি বৈষম্য তৈরী করে সাধারণ কর্মচারীদের কে অবহেলা করা হয়েছে। তারপর ২০০৮ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ কর্মচারীরা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন, পরে বেতন দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হলেও সেখানে রয়েছে বিশাল ফাঁকফোকর, নামেমাত্র বেতন বাড়লেও সধারণ কর্মচারীদের বেতন কিন্তু দ্বিগুণ বাড়েনি।২০১৫ সালের বেতন স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কোথাও ২% কোথাও ৩% কোথাও ৪% বৃদ্ধি করা হয়েছে, দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়নি। জাতীয় সংসদ ভবনেও লিখিতভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে, অদ্যাবধি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জ্বালাও-পোড়াও সহ যত ধরনের আন্দোলন নাশকতা হয়েছে সকল আন্দোলন নাশকতার বিরুদ্ধে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা  প্রতিরোধ করেছেন। এবারের মে দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,শ্রমওপ্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকতার  হোসেন দাবি জানান অতি দ্রুত সাধারণ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও দাবিদাওয়াগুলো যেন মেনে নেয়া হয়। তাহলেই কেবল সুস্থ-সুন্দর জীবনের অধিকারী হবে সাধারণ কর্মচারীরা, তবেই মে দিবসের অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে।