‘সবার ঢাকা’ অ্যাপে এক মাসে চার শতাধিক অভিযোগ, সমাধান চুয়াত্তর শতাংশ

‘সবার ঢাকা’ অ্যাপে এক মাসে চার শতাধিক অভিযোগ, সমাধান চুয়াত্তর শতাংশ

এইচ এম জাকিরঃ গত ১০ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর থেকে আজ মঙ্গলবার ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা পর্যন্ত এক মাসে ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপটি ৪ হাজার ৭৩ জন ডাউনলোড করেছেন। অ্যাপটির মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার নগরবাসী মোট ৪২৯টি অভিযোগ প্রেরণ করেছেন। এর মধ্যে ৩১৮টি অভিযোগ অর্থাৎ ৭৪ শতাংশ অভিযোগের সমাধান দেওয়া হয়।সর্বোচ্চ ১১৩টি অভিযোগ সড়ক মেরামত ও ম্যানহোল সংক্রান্ত পাওয়া যায়, এর মধ্যে ৯৪টি অভিযোগের সমাধান দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৪টি অভিযোগ পাওয়া যায় সড়ক বাতি স্থাপন ও মেরামতের জন্য, যার মধ্যে ৯০টির সমাধান দেওয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৭৮টি অভিযোগ পাওয়া গেলে ২২টির সমাধান দেওয়া হয়। মশা সংক্রান্ত ৫৭টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪৬টির সমাধান দেওয়া হয়। ময়লা-আবর্জনা অপসারণের জন্য ৪৬টি অভিযোগের মধ্যে ৪২টির সমাধান দেওয়া হয়। এছাড়া নর্দমা সম্পর্কিত মোট ৩৫টি অভিযোগের মধ্যে ২০টির মীমাংসা করা হয়। জলাবদ্ধতা নিয়ে পাওয়া ৩টি অভিযোগের সব কয়টির সমাধান দেওয়া হয়। পাবলিক টয়লেট সংক্রান্ত ৩টি অভিযোগের মধ্যে ১টির সমাধান করা হয়েছে। অনিষ্পন্ন মোট ১১১টি অভিযোগ বিভিন্ন মেয়াদে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ ৫৫টি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০টি অভিযোগ পাওয়া যায়।সমাধানকৃত কয়েকটি অভিযোগ নিম্নরূপঃঅভিযোগ ১: ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকদী বাজার রোডে একটি ম্যানহোলের ঢাকা খোলা – মর্মে নাম প্রকাশে প্রকাশ করেননি একজন নগরবাসী অভিযোগ করেন। ডিএনসিসি কর্তৃক অভিযোগটি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়।অভিযোগ ২: ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদাবর থেকে জনৈক মনসুর রেজা তাঁর এলাকায় একটি সড়ক বাতি দীর্ঘদিন ধরে জ্বলে না – অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযোগটি দ্রুত সমাধান দেওয়া হয়।অভিযোগ ৩: ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাইফুর রহমান চৌধুরী জানান, আগারগাও এলাকায় সড়কে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ সম্পর্কে অ্যাপে জানান। অভিযোগটির দ্রুত সমাধান দেওয়া হয়।অভিযোগ ৪: ১২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর টোলারবাগের একজন নাগরিক নর্দমায় ময়লা সম্পর্কে অভিযোগ করেন, যা ডিএনসিসি কর্তৃক একদিনের মধ্যে অপসারণ করা হয়।অভিযোগ ৫: ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের খিলক্ষেত নামাপাড়ার একজন বাসিন্দা মশা নিয়ে অভিযোগ করেন। নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম ছাড়াও সেদিনই সেখানে মশার কীটনাশক ছিটানো হয়।অভিযোগ ৬: ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যানপুর থেকে জনৈক ব্যক্তি সড়ক বাতি নিয়ে অভিযোগ করলে দ্রুত সমাধান দেওয়া হয়।অভিযোগ ৭: ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরপুরের সবুজ আহমেদ জানান, জনতা হাউজিংয়ে সড়কের মুখে দীর্ঘদিন ধরে একটি গেট বন্ধ রাখায় চলাচলে অসুবিধা হয়। অভিযোগের তিন দিনের মধ্যে গেটটি খুলে দেওয়া হয়। অভিযোগকারী জানান’ “৯ মাস থেকে গেট বন্ধ ছিল। এখন গেটটি ওপেন ৩ দিনে সমাধান। আগে অনেক মানুষের কষ্ট হত। ধন্যবাদ সবার ঢাকা অ্যাপ”।ডিএনসিসি মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসির সকল সেবা সহজে নাগরিকদের হাতের মুঠোয় পৌঁছানোর লক্ষ্যে ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপটি চালু করা হয়েছে। নগরবাসীর কাছে আরো জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে অ্যাপটি সম্পর্কে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়।