ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’
ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’

মোঃ ফজলুল কবির গামা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল একটি শিশুর শৈশবকেই কেড়ে নেয় না, বরং তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকেও সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। এই সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়েছে সচেতনতামূলক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’।
জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেল, বাংলাদেশ বেতার, ঢাকার আয়োজনে ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাল্যবিবাহের কুফল, এর সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম-সেবা; মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মাহবুবা আখতার তাবীয়া; পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম এবং কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সজীব দত্তের সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিজেদের সচেতন অবস্থান তুলে ধরে। অতিথিরাও এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ শুধু প্রশাসন কিংবা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়; বরং পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এ সমস্যার কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নিজেদের অধিকার, ভবিষ্যৎ ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে ভাবনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। তারুণ্যের কণ্ঠে উচ্চারিত সচেতনতার এই বার্তা সমাজে বাল্যবিবাহমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: