মাফিকুল ইসলাম,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত দুটি ল্যাপটপ, ছয়টি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ৪০ মিনিটের মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর মৌজায় নবাবগঞ্জ-ভাদুরিয়া সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ১২ থেকে ১৩ জনের একটি ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানসহ তিন থেকে চারটি যানবাহনের চালক, সহকারী ও যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাঁদের মারধর করে আনুমানিক ১২ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানচালক মো. আরাফাত প্রামাণিক নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলমগীরের নেতৃত্বে একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শাকিল সরকার (২৬) ও রুহুল আমিন (৩৫); রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রাশেদ মিয়া (৩০), রবিউল প্রধান ওরফে রুবেল (৩৫), সাজু মিয়া (৫৩), আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২) ও মিরাজ মিয়া (২৬); এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাহিন মিয়া (৩০)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাজু মিয়া, আরিফুল ইসলাম ও মিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সময়ে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে এইচপি ব্র্যান্ডের দুটি ল্যাপটপ, ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের পাঁচটি স্মার্টফোন এবং একটি ম্যাক্সটেল বাটন ফোন। এ ছাড়া গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি করাত ও একটি কাস্তে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।