
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ। সংশ্লিষ্ট জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তারা তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গঠিত সরকার বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও এতে বলা হয়েছে।
সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সার্বিক কার্যক্রমের জন্য জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে সমষ্টিগতভাবে দায়বদ্ধ—প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূলকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেসের সংশ্লিষ্ট বিধানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো ক্ষেত্রে রুলস অব বিজনেস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে পারেন। এসব বিষয় মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনার পর দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নম্বর ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্ম অনুযায়ী এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।
তারা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।
একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও তারা তদারকি করবেন। প্রয়োজন হলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
১. ইকবাল হাসান মাহমুদ — রাজশাহী ও নাটোর
২. ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন — লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়
৩. আব্দুল আউয়াল মিন্টু — লক্ষ্মীপুর
৪. নিতাই রায় চৌধুরী — চুয়াডাঙ্গা
৫. খন্দকার আবদুল মুক্তাদির — হবিগঞ্জ
৬. আরিফুল হক চৌধুরী — মৌলভীবাজার
৭. মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি — চট্টগ্রাম
৮. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত — শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
৯. আসাদুল হাবিব দুলু — ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
১০. মো. আসাদুজ্জামান — খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট
১১. জাকারিয়া তাহের — ফেনী ও নোয়াখালী
১২. সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল — মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ
১৩. সাচিং প্রু জেরী — কক্সবাজার
১৪. মো. শরিফুল আলম — টাঙ্গাইল ও নরসিংদী
১৫. শামা ওবায়েদ ইসলাম — মাদারীপুর ও শরীয়তপুর
১৬. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
১৭. আব্দুল বারী — বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
১৮. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু — ঢাকা
১৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন — খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি
২০. হাবিবুর রশিদ — গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ
২১. মো. রাজীব আহসান — বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর
২২. মীর শাহে আলম — রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম
২৩. ফারজানা শারমিন — সিরাজগঞ্জ ও পাবনা
২৪. শেখ ফরিদুল ইসলাম — যশোর, মাগুরা ও নড়াইল
২৫. ইয়াসের খান চৌধুরী — জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ
২৬. আহমেদ সোহেল মঞ্জুর — বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি
২৭. মোহাম্মদ শামীম কায়সার — জয়পুরহাট ও নওগাঁ
২৮. আলহাজ মো. জি কে গউস — সিলেট ও সুনামগঞ্জ
২৯. মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ — রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ
৩০. এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) — ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।
Generating your photocard...