শরিফ ইসলাম, নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ সর্বস্তরের মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ মিলছে না। দিনের অধিকাংশ সময় লোডশেডিং থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের দাবি, বিনোদনের এই সময়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি বিকল হয়ে থাকা।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ওবাইদুল হক বলেন, “উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। অথচ আমরা পাচ্ছি মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যেও জাতীয় গ্রিড থেকে স্ক্যাডা (SCADA) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে। আমরা যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছি, সে অনুযায়ীই বিতরণ করছি। এ পরিস্থিতিতে আমাদেরও কিছু করার নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ সংকট দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা এবং নাটোরের জামাই হওয়া সত্ত্বেও নাটোর জেলায় কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
স্থানীয়রা দ্রুত গুরুদাসপুরসহ নাটোর জেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।