দেবদূত কর তীর্থ | ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্প্রিঞ্জার নেচার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচক 'নেচার ইনডেক্স'-এ বাংলাদেশের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই স্বীকৃতি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক মর্যাদার নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নেচার ইনডেক্স কী এবং কীভাবে মূল্যায়ন হয়
নেচার ইনডেক্স হলো স্প্রিঞ্জার নেচার কর্তৃক পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণা সূচক, যা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান মূল্যায়ন করে। এই সূচকে কোনো প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণে 'শেয়ার স্কোর' পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
নেচার ইনডেক্সের নিয়ম অনুযায়ী, একটি গবেষণাপত্রে একাধিক দেশীয় বা বিদেশি গবেষক বা প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত থাকলে সেই গবেষণাপত্রের মোট কৃতিত্ব লেখকদের অবদানের অনুপাতে ভগ্নাংশে বণ্টিত হয়। এই ভগ্নাংশ-নির্ভর মানই 'শেয়ার স্কোর' নামে পরিচিত, এবং চূড়ান্ত প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান মূলত এই স্কোরের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।
বাংলাদেশ থেকে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ
বাংলাদেশ থেকে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নেচার ইনডেক্সে স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।
গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট
একাডেমিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নেচার ইনডেক্সে তালিকাভুক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। তুলনামূলকভাবে নতুন এবং অ-মেট্রোপলিটান একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি দেশের বিকেন্দ্রীভূত গবেষণা সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির এই অর্জন দেশের গবেষণা পরিবেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
তথ্যসূত্র: Nature Index, Springer Nature। বিস্তারিত: nature.com/nature-index
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।