মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ জলাভূমি ছাতড়া বিলে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় বোরো ধান কাটার হিড়িক পড়েছে। তবে হঠাৎ করে সব কৃষক একসঙ্গে ধান কাটতে শুরু করায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে ধান কাটার মজুরি বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিলে এ বছর ২ হাজার ১৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বিলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত একটি খাল শিব নদীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আগাম বৃষ্টিতে ফসল ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে আকাশের অবস্থা দেখে কৃষকেরা তড়িঘড়ি করে ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
পার্শ্ববর্তী জন্তইল গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন বলেন, আকাশের অবস্থা ভালো না, যেকোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো বিলের এক-তৃতীয়াংশ ধানও এখনো কাটা হয়নি। একই গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, গত বছর যেখানে মণপ্রতি ৫-৬ কেজি ধানের বিনিময়ে শ্রমিক পাওয়া যেত, এবার ২০ কেজি দিতে চাইলেও লোক মিলছে না। বাধ্য হয়ে বেশি মজুরি দিয়েই ধান কাটতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিক মিনহাজুল জানান, ঝড়ো বাতাসে অনেক ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কাটতে বেশি সময় লাগছে। ১৩ জন মিলে সারাদিনে দুই বিঘার ধানও শেষ করা যাচ্ছে না, তাই মজুরি কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে। এদিকে ধানচাষি রহমানের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও আড়তদাররা ন্যায্য দাম দিচ্ছে না। কেউ কেউ মণপ্রতি মাত্র ৮০০ টাকা দাম হাঁকছেন, তাও আবার বাকিতে।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাতড়া বিলে এ বছর ধানের ফলন চমৎকার হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িক শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় আমরা কৃষকদের জন্য কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ব্যবস্থা করেছি। এতে খরচ ও সময় দুই-ই কম লাগবে।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।