বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলী থানার শরিকখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরগাছা এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জালাল হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নাজির খান, দেলোয়ার খানসহ কয়েকজনে শালিশ বৈঠক ভেঙে দিয়ে জোরপূর্বক তার দীর্ঘদিনের আমার বসত জমি দখলের চেষ্টা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১ /৭/ ২০২৬ তারিখে বিকেল ৫টার দিকে। জালাল হাওলাদার (৬২) তালতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ও তার পরিবার ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নাজির খান (৫০), দেলোয়ার খান (৫২)সহ অন্যান্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।

জালাল হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন: “আমি এই জমিতে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত বসবাস করে আসছি। কিন্তু পাশের জমির লোকেরা আমাদেরকে বিভিন্ন সময় জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। আমি শালিশ ডেকেছিলাম, তারাও প্রথমে শালিশ মানলেও শালিশের দিন এসে তারা শালিশ বাতিল করে জোরপূর্বক জমি দখল করতে চায়। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই, যেন আমি এই সন্ত্রাসীদের কাছে হেরে না যাই। সঠিক বিচার চাই।”
জালাল হাওলাদারের ছেলে জানান,“আমি ছোটবেলা থেকেই এই বাড়িতে বড় হয়েছি। আমাদের কাগজপত্র ওকে থাকা সত্ত্বেও। নাজির খান, দেলোয়ার খানরা আমাদের উপর জুলুম করছে, গায়ের জোরে বসতবাড়ি ভেঙে দিতে চায়। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।”
স্থানীয়দের বক্তব্য:
এলাকার বাসিন্দারা সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ওই দিন শালিশ বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা শালিশ ভেঙে দিয়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জোর করে পিলার পুঁতে জমি দখলের চেষ্টা করেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা জমি দখলের চেষ্টার পাশাপাশি জালাল হাওলাদারকে মারধরের হুমকি দিয়েছেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ার খান সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা জালাল হাওলাদারের বাড়িতে জায়গা পাব তারা আমাদের জায়গায় বাড়ি করছে তাই আমরা আমিন ডেকে সিমানা নির্ধারণ করেছি পরবর্তীতে বসে আমরা এটা সমাধান করব।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন যাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সংঘাত এড়াতে পারে, সে বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবি রয়েছে।এ ধরনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ যাতে আর না বাড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।