রাজাপুরে সরকারি ডাকবাংলো ‘দখল’ করে ওসির বসবাস: মেহমানদের আবাসন সংকটে জনমনে ক্ষোভ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

রাজাপুরে সরকারি ডাকবাংলো ‘দখল’ করে ওসির বসবাস: মেহমানদের আবাসন সংকটে জনমনে ক্ষোভ

10 May 2026, 11:01:06

রাজাপুরে সরকারি ডাকবাংলো ‘দখল’ করে ওসির বসবাস: মেহমানদের আবাসন সংকটে জনমনে ক্ষোভ

মো ইমরান মুন্সি, ​জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি:

ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কক্ষ দখল করে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে ওসির এই ব্যক্তিগত বসবাসের ফলে বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও ধর্মীয় অতিথিরা। বিশেষ করে ভারত থেকে আসা বিশিষ্ট আলেমদের থাকার জায়গা না হওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​​জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেন সুজন বিশ্বাস। যোগদানের পর থানার নির্ধারিত বাসভবনে না উঠে তিনি সরাসরি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষ নিজের আবাসিক হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে সব ওসি থানার অভ্যন্তরীণ ভবনে থাকলেও বর্তমান ওসি ডাকবাংলো বেছে নিয়েছেন। এমনকি ডাকবাংলোর প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

​প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গত ৯ মে ভারতের জৌনপুর থেকে তিন জন প্রখ্যাত আলেম ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে রাজাপুরে আসেন। যুগ যুগ ধরে এই মেহমানরা রাজাপুরে এলে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে এই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করতেন। কিন্তু এবার ওসির ব্যক্তিগত দখলের কারণে তাদের সেখানে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

​”জৌনপুরের আলেমরা প্রতি বছরই আমাদের এখানে আসেন এবং দুই-এক দিন ডাকবাংলোতে অবস্থান করেন। এবার ওসির বসবাসের কারণে বিশিষ্ট এই মেহমানদের উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

​ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো. মানিক তালুকদার জানান, ভবনটি ফাঁকা থাকায় কয়েক দিন আগে ওসি সাহেব এখানে উঠেছেন এবং নিরাপত্তার খাতিরে মূল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী জানান, ডাকবাংলোটি জেলা পরিষদের হলেও তদারকি করে উপজেলা প্রশাসন। থানার ভেতরে ওসির বাসভবনে সংস্কার কাজ চলায় তিনি সাময়িকভাবে এখানে থাকছেন। কাজ শেষ হলে তিনি পুনরায় থানার ভেতরে ফিরে যাবেন।

​অন্যদিকে, ওসি সুজন বিশ্বাস তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন:

​”থানার ভেতরে ওসিদের থাকার মতো কোনো মানসম্মত ভবন নেই। আগের কর্মকর্তারা যে ব্যারাকে থাকতেন, সেটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী। মূলত বাধ্য হয়েই আমাকে ডাকবাংলোতে উঠতে হয়েছে।”

রাজাপুরের সচেতন মহলের মতে, সরকারি কর্মকর্তার আবাসন সংকট থাকতে পারে, তবে তার সমাধান কোনোভাবেই পর্যটক বা জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত স্থাপনা দখল করে হতে পারে না। সাধারণ মানুষের সেবা ও অতিথিদের বিশ্রামের জায়গাটি দ্রুত উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: