মোঃ ইমরান মুন্সি, জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বারবাকপুর (আমিন বাড়ী) এলাকায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় উভয় পক্ষের নারী সহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইদ্রিস ও জামাল নামের দুই জনকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার পর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বারবাকপুর (আমিন বাড়ী) এলাকার একটি জমিতে সিমানা পিলার ও কাটা তারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছে।
মো.ইদ্রিস হোসেন তার অভিযোগে দাবি করেছেন, বিরোধীয় ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক পিলার ও কাটা তার দিয়ে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করলে তারা তাতে বাধা দেন। এ সময় প্রতিপক্ষরা শাবল, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ইদ্রিস, তার মা আকলিমা বেগম, মনজুরা বেগম, শাহিদা বেগম ও আল আমিন আহত হন। আহত ইদ্রিসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী মো. ইদ্রিস হোসেন দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নিষ্পত্তির আগেই প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক নির্মাণকাজ শুরু করায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।
মনিরুজ্জমানের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তার প্রবাসী ছোট ভাই ড. মো. মফিজুর রহমানের ক্রয়কৃত জমিতে শ্রমিক দিয়ে পিলার ও কাটা তারের বেড়া নির্মাণের সময় প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে জামাল, হেলাল, সালেক, কুদ্দুস, হাসান, হাওয়া ও সুমাইয়া আহত হন। আহত জামালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অপর পক্ষের অভিযোগকারী মো. মনিরুজ্জমান বলেন, "বিতর্কিত জমির দলিল, নামজারি (মিউটেশন) এবং স্থানীয় শালিশের রোয়েদাদ আমাদের কাছে রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও প্রতিপক্ষ'রা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চাই।"
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, একই ঘটনায় উভয় পক্ষ পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ দুটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।