মোঃনাজমুল মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট):
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক দিনমজুর পরিবারের পৈতৃক ভিটেমাটি দখলের উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষরা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি দাখিল পরীক্ষার্থী এক মেয়েকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের গোদারা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর ও গ্যারেজ শ্রমিক ইলিয়াস শেখ অভিযোগ করে জানান, তার পিতা মৃত হাসেম আলী শেখের ক্রয়কৃত প্রায় ১ একর ৫০ শতক জমিতে তারা ছয় ভাইসহ প্রায় ৭০-৮০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি একই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি কেরামত আলী খান ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ইলিয়াস শেখের দুই ছেলে কর্মসূত্রে গ্রামের বাইরে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার দাখিল পরীক্ষার্থী মেয়ে মরিয়ম আক্তারকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে, যাতে সে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ এপ্রিল দুপুরে কেরামত আলী খান ও তার সহযোগীরা ইলিয়াস শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ইলিয়াস শেখ বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রী তাছলিমা বেগমকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ইলিয়াস শেখ বাদী হয়ে কেরামত আলী খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পরও অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
অশ্রুসজল কণ্ঠে ইলিয়াস শেখ ও তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম বলেন, “গরিব মানুষ কি ন্যায়বিচার পাবে না? নিজেদের জমিতে গাছ লাগিয়েছি, সেটাও কেটে নেওয়া হয়েছে। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। একের পর এক মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে কাজ করতে পারছি না—আয় না হলে খাবো কী?”
তারা আরও বলেন, “আমাদের পৈতৃক ভিটেমাটি জোর করে দখল করার জন্যই এসব করা হচ্ছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে কেরামত আলী খান বলেন, “আমি কাউকে হয়রানি করছি না। আমি ইলিয়াস শেখের বাবার কাছ থেকে এক একর জমি ক্রয় করেছি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তারা তাতে অংশ নিচ্ছে না।”
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান জানান, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।