
মোংলা প্রতিনিধিঃ
মোংলার পরিচিত ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মাহে আলম হত্যাকাণ্ডটি তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, অপহরণ, পূর্বপরিকল্পিত হত্যা এবং লাশ গুমের ঘটনায় সে সময়ের বন বিভাগ, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে মোংলা পৌরসভা চত্বরে মাহে আলমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। কর্মসূচিটি যৌথভাবে আয়োজন করে সচেতন নাগরিক সমাজ মোংলা ও নিহতের স্বজনরা।
বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলা পৌর মৎস্যজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহে আলমকে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা চালানো হয়। পরে ১৩ এপ্রিল সুন্দরবনের করমজল এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার হলেও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে অসত্য তথ্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ৬৫ বছর বয়সী মাহে আলমের মরদেহকে ২২ বছর বয়সী খ্রিষ্টান যুবক ‘হিলটন নাথ’ হিসেবে ভিন্ন পরিচয়ে দাফন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন বক্তারা।
পরবর্তীতে নিহতের ছেলের আবেদনের ভিত্তিতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হলে প্রায় সাত মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পুনরায় দাফন করা হয়।
মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ছেলে সুমন রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হলেও বর্তমানে পিবিআই তদন্তে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবার অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন চিলা এলাকার বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও বেলায়েত সর্দারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক মোংলার সাধারণ সম্পাদক নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নূর জনি সহ অন্যান্যরা। বক্তারা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে মামলাটির পুনঃতদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। তারা বলেন, অতীতে সংঘটিত এ ধরনের অপরাধের বিচার নিশ্চিত না হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।