ডেক্স রিপোর্টঃ ১৭ আগস্ট রবিবার ২০২৫।
ত্বকে ব্রণ একটি বহুল প্রচলিত চর্মরোগ। চিকিৎসকরা সাধারণত এর পেছনে কয়েকটি শারীরবৃত্তীয় কারণ চিহ্নিত করেছেন—ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম নিঃসরণ, মৃত কোষ জমা, এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গবেষকরা নতুন করে নজর দিচ্ছেন আরেকটি সম্ভাব্য কারণে—মানসিক চাপ বা স্ট্রেস।
একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ সরাসরি হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের National Institutes of Health (NIH)-এর একটি গবেষণা জানায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর ব্রণের মাত্রা বাড়ে তাদের পরীক্ষার সময়, যখন মানসিক চাপের মাত্রাও সর্বোচ্চ থাকে।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও করা গবেষণা বলছে, দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ বা টেনশনে ভোগা মানুষের ত্বকে ব্রণের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। কর্টিসল হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণকে এখানে মূল প্রভাবক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কর্টিসল সাধারণভাবে “স্ট্রেস হরমোন” নামে পরিচিত। মানসিক চাপ বাড়লে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং সেবাম উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলস্বরূপ, ত্বকের রন্ধ্রে সহজেই তেল ও ব্যাকটেরিয়া জমে ব্রণ তৈরি হয়। যদিও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এখনো বলেন—“কর্টিসল ও ব্রণের সরাসরি সম্পর্ক পুরোপুরি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি”—তবুও তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্ট্রেস কমলে রোগীর ব্রণও তুলনামূলকভাবে কমে।
ঢাকার জনপ্রিয় এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন—
“শুধু প্রসাধনী বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেই ব্রণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। যদি রোগী মানসিক চাপে থাকে, তাহলে চিকিৎসা সম্পূর্ণ কার্যকর হয় না। তাই আমরা সবসময় রোগীদের জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিই।”
ব্রণ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা যতটা জরুরি, মানসিক সুস্থতাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা অনুযায়ী, যারা নিয়মিত শরীরচর্চা, ধ্যান, যোগব্যায়াম বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তাদের স্ট্রেসের মাত্রা কম থাকে এবং ব্রণের প্রকোপও তুলনামূলকভাবে হ্রাস পায়। পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রণ শুধু ত্বকের রোগ নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণা হয়তো এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে বলছে না—কিন্তু পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বলছে, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে ব্রণ কমে। তাই ওষুধ বা প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।