প্রিন্স হালদার, (বাগেরহাট)প্রতিনিধি:
টেকসই কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে জৈব বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে এক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০৭.০৬.২০২৬ তারিখ (রবিবার) বিকাল ০৪:০০ টায় ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ-এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালাটি বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাখরগন্জ বাজারে কৃষক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, রিজনাল সেলস ম্যানেজার, ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ, খুলনা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লব কুমার মন্ডল, টেরিটরি সেলস অফিসার এবং ডিলার মোঃ জাহাঙ্গীর আলী শেখ ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কৃষি উদ্যোক্তা, স্থানীয় রিটেইলার, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং প্রায় ৬০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস, পরিবেশ দূষণ এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে জৈব বালাইনাশক বর্তমানে নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন সম্ভব হলেও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় না এবং উপকারী পোকামাকড় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে।
বক্তারা আরও জানান, জৈব বালাইনাশক মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে, উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে ৬০ জন কৃষকদের মাঝে ব্র্যাক সিডের বিভিন্ন কৃষি উপকরণ যেমন হাইব্রিড শবজি বীজ, শসা,করলা বীজ, উন্নতমানের অন্যন্ন সবজি বীজ, জৈব বালাইনাশক, ফেরামন ট্রাপ,ইয়োলো কার্ড বিতরণ করা হয়।
বায়োপেস্টিসাইডের সঠিক ব্যবহার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM), নিরাপদ ফসল উৎপাদন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় কৃষকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও আগ্রহপূর্ণ উপস্থিতি কর্মশালাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।