- শিক্ষক বাদশা নন বাদশা গড়ার কারিগর, ৪০ বছরেরও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’র শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর হয়নি
- শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না -ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
- শিক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি: ‘শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান
বাবা কোথায়?” ৩ বছরের শিশুর আর্তনাদ, খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেটে হাজারো মানুষের মানববন্ধন
বাবা কোথায়?" ৩ বছরের শিশুর আর্তনাদ, খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেটে হাজারো মানুষের মানববন্ধন

আক্তার হোসেন, সিলেটঃ
সিলেটের জালালাবাদ থানায় মসজিদের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত দেলোয়ার হোসেন (৪৫) হত্যার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই দীর্ঘসূত্রতা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে জালালাবাদ থানাধীন গালমশাহ বাজার এলাকা। হাজার হাজার এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মানববন্ধনে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। বক্তারা অভিযোগ করেন, “আমরা ধারণা করছি, সিলেট জালালাবাদ থানার পুলিশ ঘুষের বিনিময়ে আসামিদের ধরছে না।” প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা এবং ধীরগতিকে তারা সুবিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। অবিলম্বে আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
হৃদয়বিদারক দৃশ্য: বাবার অপেক্ষায় ৩ বছরের শিশু
মানববন্ধনে উপস্থিত সবার চোখের কোণে পানি নিয়ে আসে নিহত দেলোয়ার হোসেনের ৩ বছর বয়সী সন্তানের উপস্থিতি। বাবার হত্যার বিচার চেয়ে শিশুটির হাতে থাকা ফেস্টুনটি ছিল পুরো মানববন্ধনের কেন্দ্রবিন্দু। শিশুটি বারবার সবার কাছে জানতে চাচ্ছিল, “আমার বাবা কোথায়? আমি বাবার কাছে যাব।” শিশুটির হাতের ফেস্টুনে লেখা ছিল— “আমার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।” এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত হাজারো মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং খুনিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য শ্লোগান দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল সিলেট সদর উপজেলার ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়নের গালমশাহ গ্রামের ‘গালমশাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’-এর নামকরণ নিয়ে পার্শ্ববর্তী খাসরগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাসরগাঁও গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গালমশাহ গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আজকের মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























মন্তব্য: