আজাদ রুহুল আমিন, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ ৩০ আগস্ট শনিবার ২০২৫।
জেলার মোরেলগঞ্জ শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার রাতে দুদক বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি দুদক জেলা কার্যালয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন—
মো. ফরিদ উদ্দিন (৩৩), উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা শাখা, দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লি. (কালব)
কর্মকর্তা শেখ নজরুল ইসলাম
মোসাঃ সাবিনা ইয়াসমিন
মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন হিরু
আবুল কালাম আজাদ মল্লিক
জাহিদুর রহমান, রূপালী ব্যাংক পিএলসি বারুইখালী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক
নৃপেন কুমার পাল
মো. মকলুকার রহমান
মো. আজম শেখ, একই শাখার জুনিয়র অফিসার
মো. আব্দুল্লাহ তালুকদার, ক্যাশিয়ার ইনচার্জ
আদিত্য কুমার মণ্ডল, দ্বিতীয় অফিসার
সুজন কুমার সুতার, অফিসার ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গ করে ২০১৭ সালের ২১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড থেকে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাত করেন।
তারা সদস্যদের নামে ভুয়া ঋণ আবেদন তৈরি, নকল কাগজপত্র সংযুক্তকরণ, বোর্ড চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারিসহ অন্যান্য সদস্যদের ভুয়া স্বাক্ষর প্রদান এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসি বারুইখালী শাখায় ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাত করেন। এভাবে তারা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, কালব-এর অধীনে থাকা মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি. (টিসিইউ) প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচিত ৬ সদস্যের একটি রেজুলেশন বোর্ড রয়েছে। এ বোর্ডের কাজ হলো সদস্যদের অনুমোদন দেওয়া, ঋণ আবেদন যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন করা এবং ঋণ বিতরণের অর্থ যথানিয়মে আদায় তদারকি করা।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব (নং-৩০৩৮০২৪০০০০১৩, এসটিডি-১৩) রূপালী ব্যাংক পিএলসি বারুইখালী শাখায় পরিচালিত হতো। এ হিসাবে চেক স্বাক্ষরের দায়িত্বে ছিলেন—চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম হাওলাদার, সেক্রেটারি মো. হারুন অর রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আসামি মো. ফরিদ উদ্দিন। ফরিদ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের চেক বহি, ঋণগ্রহীতাদের বেতন সংক্রান্ত মূল ব্যাংক চেক বই এবং সকল রেজিস্টার সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ আত্মসাত করেন।
দুদক বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বলেন, “প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার এজাহার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।