বনের টক ফলেই উপকূলের মিষ্টি সম্ভাবনা! কেওড়া ঘিরে কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির নতুন স্বপ্ন
বনের টক ফলেই উপকূলের মিষ্টি সম্ভাবনা!

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ কেওড়া এখন শুধু পরিবেশের রক্ষাকবচ নয়, উপকূলীয় মানুষের অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে। Sonneratia apetala নামের এ গাছ লবণাক্ত মাটি ও জোয়ার-ভাটার পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। এর ফল দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন মানুষের খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কেওড়া ফল সাধারণত বর্ষা মৌসুমে পরিপক্ব হয় এবং আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এর প্রাপ্যতা বেশি থাকে। টক স্বাদের এ ফল দিয়ে ভর্তা, ডাল ও মাছের রান্নার পাশাপাশি আচার, চাটনি, জ্যাম ও জেলি তৈরি করা যায়। গবেষণায় কেওড়া ফলে ভিটামিন C, পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড, বিভিন্ন ফেনোলিক যৌগ ও খনিজ উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতাও গবেষণায় শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কেওড়া ফল থেকে পেকটিন ও ভিটামিন C পৃথক করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে ফলটি থেকে বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্য তৈরির সুযোগ রয়েছে।
সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রেও কেওড়ার গুরুত্ব রয়েছে। এর ফল হরিণ, বানর ও বিভিন্ন পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কেওড়া ফুলে মৌমাছির বিচরণ থাকায় মধু উৎপাদনেও এর ভূমিকা রয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষিতে যখন নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তখন কেওড়া ফলকে ঘিরে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নারীরা আচার, চাটনি, জ্যাম ও জেলি তৈরি করে আয় করতে পারেন।
তবে বাণিজ্যিকভাবে কেওড়ার ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজন মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ, আধুনিক প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ। পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফল সংগ্রহ ও গাছ ব্যবস্থাপনায় টেকসই নীতি অনুসরণ জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে সুন্দরবনের এই উপেক্ষিত ফল উপকূলীয় মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: