পৈতৃক ভিটা দখলের অভিযোগে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ,প্রতিবাদ করায় ‘মিথ্যা অপবাদ’ দেওয়ার অভিযোগ
পৈতৃক ভিটা দখলের অভিযোগে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ,প্রতিবাদ করায় ‘মিথ্যা অপবাদ’ দেওয়ার অভিযোগ
চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহওমরাবাদ এলাকায় পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে নয় ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সাত ভাইয়ের দাবি, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির একটি বড় অংশ দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলে রেখেছেন। অন্যদিকে, বিরোধপূর্ণ জায়গা পরিষ্কার করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেলের বিরুদ্ধে ‘দখলদার’ হিসেবে মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ তোলার দাবি করেছেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত সুলতান আহমদের নয় ছেলে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রায় ২২ শতক পৈতৃক জায়গার মালিক। অভিযোগ রয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক অংশ দুই ভাই জাহাঙ্গীর ও আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দখলে রেখেছেন। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় বাকি সাত ভাই তাদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন পরিবারের কয়েকজন সদস্য।
পরিবারের সদস্য রুবেল ও তার চাচাতো ভাই মো. তারেকের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর ও আলমগীর সালিশে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এতে বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।
তাদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি পৈতৃক সম্পত্তির কিছু অংশ গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এমন খবর পেয়ে রুবেল তার চাচা জাহাঙ্গীর ও আলমগীরকে বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। এ সময় তাকে বিষয়টি নিয়ে আর কথা না বলার জন্য তিন লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন রুবেল। তবে তিনি ওই টাকা গ্রহণ না করে সাত ভাইয়ের প্রাপ্য অংশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এরপরই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও সাজানো ‘দখলদার’ অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি রুবেলের।
ঘটনার বিষয়ে পরিবারের কয়েকজন সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, তারা কোনো পক্ষের অবৈধ সুবিধা চান না; পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজেদের আইনগত ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে চান। প্রশাসনের প্রতি তাদের আহ্বান ; বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের অবস্থা যাচাই করা হউক এবং কেউ যেন তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
এদিকে পরিবারের আরেক সদস্য প্রতিবন্ধী রফিকের ছেলে মো. তারেক তার বাবার সম্পত্তি ও বসতবাড়ি নিয়েও অভিযোগ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ২০১২ সালে জাতিসংঘের (ইউএন) মাধ্যমে একটি এনজিও সংস্থা প্রতিবন্ধী রফিককে একটি পাকা বাড়ি প্রদান করে। কিন্তু বাড়িটি পাওয়ার এক-দুই মাস পর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ভাই আলমগীর তার বাবা রফিক ও দাদিকে মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই বাড়ি তাদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি তারেকের।
প্রতিবন্ধী রফিক বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী ও দুর্বল মানুষ। আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যদি আমার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমি কার কাছে বিচার চাইব ? প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, বিষয়টি তদন্ত করে আমার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হউক।
পরিবারটির দাবি, দীর্ঘদিনের এ বিরোধ এখন পারিবারিক কলহের পর্যায় ছাড়িয়ে সম্পত্তির অধিকার ও দখল নিয়ে জটিলতায় রূপ নিয়েছে। তাই যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



