সাকিব আহসান,প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইশফাকুল কবির ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ আরিফ
এবারের বিতর্কের বিষয় ছিল— “অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ।” বিষয়টির পক্ষে ও বিপক্ষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যুক্তি, তথ্য ও উদাহরণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিরও বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা দুদকের ওপর ন্যস্ত। এছাড়া দণ্ডবিধি, ১৮৬০, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এ ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততার চর্চা জোরদার করা জরুরি।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার, সনদপত্র ও পদক বিতরণ করা হয়।
বিতর্কে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার বলেন, “দুর্নীতির পেছনে অনেক সময় অভাবকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, যাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়েছে তারাও অতিরিক্ত সম্পদ ও ক্ষমতার লোভে অনিয়মের পথে হাঁটেন। তাই সীমাহীন লোভই দুর্নীতির বড় কারণ।”
অপর শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান বলেন, “শুধু আইন করে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ থেকে সততার শিক্ষা দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলে দুর্নীতির প্রবণতাও কমবে।”
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম জানান, “বিতর্কের মাধ্যমে আমরা শুধু বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাইনি, বরং দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও নতুনভাবে জানতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সমাজ গঠনে এসব শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উপস্থিত এক শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবোধ ও নৈতিক চেতনা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে, যারা রাষ্ট্র ও সমাজকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পথে এগিয়ে নেবে।
সার্বিকভাবে প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।