সবীর আহমেদ ফোরকান, পরশুরাম প্রতিনিধিঃ
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ৩ নম্বর চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর মালিপাথর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) রাত প্রায় ৯টার দিকে সিলোনিয়া নদীর পাড় সংলগ্ন ব্রিজের দক্ষিণ পাশে নূর আহম্মদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের একটি পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে রাকিবের এক চাচাতো বোন তাদের বাড়িতে বেড়াতে এলে অন্য আরেক চাচাতো বোন সহ গ্রামে ঘুরতে গেলে কয়েকজন বখাটে তাকে উত্ত্যক্ত করে ও আটকে রাখে।
পরে উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল হালিম মানিক বিষয়টি মীমাংসা করেন। ওই ঘটনার রেশ ধরেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শালধর চৌমুহনী এলাকায় টমটম চালক রাকিবের পথরোধ করেন নুর মিয়ার ওরফে নুনুর ছেলে রাজু , মুস্তফার ছেলে হেলালসহ কয়েকজন। তারা রাকিবের টমটমের চাবি নিয়ে যান এবং রাস্তায় গাড়ি চালাতে হলে চা-নাস্তার খরচ দিতে হবে বলে দাবি করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ সময় রাকিব তার ভাই আলমগীর ও রাসেলকে ফোন দিলে তারাও ঘটনাস্থলে যান। পরে বাজারে থাকা এক ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসা করে দেন এবং টমটম ও চাবি তার জিম্মায় রেখে রাকিব ও ভাইযরা তাদের বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পথে তাদের আবারও মারধরের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী নূর আহম্মদ জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর তাদের কাছে ফোন আসে যে ৭০ থেকে ৮০ জন লোক হামলা চালাতে তাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছে। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। এর কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
তিনি বলেন,
আমার ছেলের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। না দেওয়ায় তারা মারধর করে। পরে রাতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ সীমা আক্তার বলেন,
হঠাৎ ৭০-৮০ জন লোক বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। ঘরের কিছুই অক্ষত রাখেনি। ছোট ছোট বাচ্চাদেরও গায়েও হাত তোলে । আমার কানের দুল, মোবাইল ও কিস্তির টাকা নিয়ে গেছে। আমরা হাতজোড় করে অনুরোধ করলেও তারা শোনেনি। কষ্ট করে ঘর বানিয়েছিলাম, সব ভেঙে দিয়েছে।
আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাটি পারিবারিক রোজ দূরে হলেও রাজনীতির ক্ষমতা দেখিয়েছে, তারা
আমার ভাইয়ের কাছে তারা নাস্তার টাকা চেয়েছিল। সে রাজি না হওয়ায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। কিন্তু পরে যেভাবে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন। আমার গর্ভবতী স্ত্রী ও ছোট সন্তানকেও মারধর করা হয়েছে।আমার বৃদ্ধ মা নামাজ করছিল তার শরীরের অনেক থানা আঘাত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চিথলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বলেন,
ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দদে সাথে কথা বলেছি তারা বিষয়টি শুনেছে এবং এ ব্যাপারে প্রশাসন'কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।