ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শ্রেণিকক্ষ ও পাঠদান বাদ দিয়ে নিয়মিত সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। পেশাগত নৈতিকতা, শিক্ষা আইনের নিয়মনীতি এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও নানা প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রুহিয়া অঞ্চলের আসান নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, রুহিয়া ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন প্রিন্ট এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কাজ করছেন। কেউ কেউ মফস্বল প্রতিনিধি হিসেবে দাপ্তরিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মাঠে-ময়দানে।
সরকার নির্ধারিত এমপিও নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সম্পূর্ণকালীন সরকারি সুবিধা ভোগ করেন এবং তারা লাভজনক বা অন্য কোনো পেশায় সরাসরি যুক্ত থাকতে পারেন না। বিশেষ করে সরকারি চাকরির বিধিমালা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোনো পেশায় জড়িত হতে পারেন না। কিন্তু রুহিয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় অভিবাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, যে সময়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মগজ ঝালাই এবং নৈতিক শিক্ষায় ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে সংবাদ সংগ্রহ, বিভিন্ন দপ্তরে তদবির এবং প্রতিবেদন তৈরিতে। এর ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। অনেক শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না কিংবা ক্লাসে থাকলেও তাদের মন পড়ে থাকে সংবাদ বা খবরের পেছনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, বর্তমান সময়ে সম্মান ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই এই পেশার দিকে ঝুঁকছেন। তবে অতিরিক্ত পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়ায় মূল দায়িত্ব অর্থাৎ পাঠদান চরমভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। কিন্তু শিক্ষক যখন শিক্ষকতা পেশাকে গৌণ করে সাংবাদিকতাকে প্রধান পেশা হিসেবে নেন, তখন বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এতে একদিকে যেমন মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, অন্যদিকে সাংবাদিকতার মতো পবিত্র পেশার নৈতিক মানদণ্ড ও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীনুর রহমান প্রতিনেদককে জানান, এমপিও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো শিক্ষক অন্য কোনো পেশায় যুক্ত থাকার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।