মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধিঃ
উজান থেকে থেকে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরের পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুই – তিন দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এ ধান। ফলে হাওরজুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে।
মেদীর হাওরের মাছমা গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র দুই বিঘা জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার।
ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?
গোয়ালনগর ইউনিয়ন জাকির হোসেন জানান, মেদীর হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়।
গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। ধারণা কমপক্ষে দেড়-দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
মেদী হাওরের কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, মন্টু মিয়া, ফুলমিয়া বৃষ্টির পানিতে তাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টিতে উজানের পানিতে হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আধা-পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে বেগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরিনা নাছরিন বলেন, কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় সেই চেষ্টা চলছে।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।