নরসিংদী ১ শত শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষের দিকে | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

নরসিংদী ১ শত শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষের দিকে

28 April 2026, 10:30:18

নরসিংদী ১ শত শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

 

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ১৫০ শয্যার বর্ধিতাংশের (৮ তলা) নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার ৮ বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি। প্রায় ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হলেও লিফট স্থাপনসহ বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। ফলে নতুন ভবনটি বুঝে নিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, আর এতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০০-এরও বেশি। প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ১৫০০ থেকে ১৮০০ রোগী।

তিনি ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের সময় বেড ডকুমেন্টেশন রেট ছিল ১১৭ শতাংশ, যা বর্তমানে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে বেড়ে ২২০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ইউজার ফি (বিভিন্ন টেস্ট বাবদ আয়) পূর্বে যেখানে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকায়। সেবার মান উন্নয়ন ও কার্যকর উদ্যোগের ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমানে হাসপাতালে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন, রেবিস ভ্যাকসিন এবং সাপে কামড়ের প্রতিষেধক বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

এই হাসপাতালটি কোভিড-১৯ মহামারির সময় ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সেবার মানের জন্য দেশব্যাপী প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া সাম্প্রতিক আন্দোলনে আহতদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক।

হাসপাতালে বর্তমানে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (SCNU)-এর মাধ্যমে নবজাতকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আইসোলেশন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

নতুন ভবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ভবনটি চালু হলে এখানে আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম একটি টিমওয়ার্ক। চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স, টেকনোলজিস্ট, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। তবে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা মোকাবিলায় কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও নরসিংদী স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন বৃদ্ধি করতে নানাভাবে বিভিন্ন দফতরের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দীর্ঘদিনেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নরসিংদীবাসী চিকিৎসাসেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত প্রকল্পটি শেষ করে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: