মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বামইন গ্রামে দীর্ঘ ২০ দিন ধরে জলাবদ্ধতায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন শফিকুল আলম ভুট্টু নামে এক ব্যক্তি ও তার পরিবার। টানা বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশ ও ঘরের ভেতরে পানি জমে থাকায় পরিবারটি এখন অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে ক্রয় সূত্রে বামইন গ্রামে একটি জায়গা কিনে সেখানে ছোট্ট দ্বিতল মাটির বাড়ি নির্মাণ করেন শফিকুল আলম ভুট্টু। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই বসবাস করছিলেন তিনি। দুই সন্তানের জনক ভুট্টু মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেরও বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ছেলে, পুত্রবধূ, নাতি ও স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করতেন।
ভুট্টু জানান, তার বাড়িটি গ্রামের নিচু এলাকায় অবস্থিত। আগে গ্রামের বৃষ্টির পানি বাড়ির পাশ দিয়ে খালে চলে যেত। তবে গত খরা মৌসুমে আশপাশের নিচু জমিগুলো মালিকেরা ভরাট করে ফেলেন। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ির চারপাশে ও ঘরের ভেতরে হাঁটুসমান পানি জমে যায়।
তিনি আরও জানান, গত ২০ দিন ধরে বাড়ির চারপাশ ও ঘরের ভেতরে প্রায় এক ফুট পানি জমে রয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে গ্রামের সব পানি এসে তার বাড়ির চারপাশে জমা হয়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় বামইন ক্লাবের একটি টিনশেড কক্ষে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।
শফিকুল আলম ভুট্টু বলেন, কয়েক বছর আগে এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সরকারি ড্রেন প্রকল্পের বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সরকারি জায়গা না থাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির উপর দিয়ে কেউ ড্রেন নির্মাণে রাজি হয়নি। ফলে প্রকল্পটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। আগে বাড়ির সামনে কিছু নিচু জমি ছিল, যেখানে গ্রামের পানি জমে পরে খালে চলে যেত। এবার সেই জমিগুলোও ভরাট করে ফেলায় সব পানি এসে আমার বাড়িতে জমছে। গত ২০ দিন ধরে অন্যের জায়গায় পরিবার নিয়ে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছি। আমি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
পুত্রবধূ মাহমুদা আক্তার মুন্নি বলেন,বাড়ির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ঈদের আগেই মাটির ঘরটি ভেঙে পড়বে। আমরা চাই, অন্তত পানি বের হওয়ার একটা রাস্তা করে দেওয়া হোক।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ২২ বছর আগে শফিকুল আলম যে জমিটি কিনেছিলেন, তা পাশের উঁচু অংশ কিন্তু সেইসময় মালিকপক্ষ নিচু অংশের জমি বুঝিয়ে দেন। সম্প্রতি দলিল যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এখন তিনি কাগজপত্র অনুযায়ী নিজের প্রকৃত জায়গা বুঝে পেতে চান।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে পরিবারটি আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।