মোঃ মিনারুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে অবস্থিত বিতর্কিত ‘নিউ অ্যাপেলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে অভিযানের খবর আগেভাগে পেয়েই ক্লিনিক মালিক ও ভুয়া সনোলজিস্ট আক্তারুজ্জামান প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন।
সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএমডিসি (BMDC) নিবন্ধিত চিকিৎসক বা সনোলজিস্ট না হওয়া সত্ত্বেও ক্লিনিক মালিক আক্তারুজ্জামান নিজেই রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করছেন এবং ব্যবস্থাপত্র প্রদান করছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর আগেও গত ৫ জুন এই একই ক্লিনিকে অপারেশন টেবিলে রোগীকে ফেলে রেখে চিকিৎসকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১১ জুন ক্লিনিকটিকে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছিল। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এবং অসাধু উপায়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আজ এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যৌথ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম। তার সাথে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাঃ মশিউর রহমান। অভিযানের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি দল সহায়তা প্রদান করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেলা ১২টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা বাজারে নিউ অ্যাপেলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পৌঁছালে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে যান মালিক আক্তারুজ্জামান। ধরা পড়ার ভয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম জানান, লাইসেন্সবিহীন এবং ভুয়া সনদধারী ব্যক্তিদের দ্বারা চিকিৎসা কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আজ ক্লিনিকটি বন্ধ পাওয়ায় মালিকের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বারবার সিলগালা ও জরিমানার পরেও ক্লিনিক মালিকের এমন বেপরোয়া আচরণে স্থানীয় সচেতন মহল বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে আক্তারুজ্জামানকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে সাধারণ মানুষ আর কোনো প্রতারণার শিকার না হয়।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।