রিপন রায়, বটিয়াঘাটা খুলনা প্রতিনিধিঃ
আরমাত্র একদিন পর আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা । দুর্গাপূজাকে ঘিরে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়নে সর্বজনীন ১০৮টি ও ব্যক্তিগত ২ টি মিলিয়ে মোট ১১০ টি দুর্গা মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । গতকাল শনিবার শুভ মহালয়ার মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দূর্গা মায়ের আগমনের বার্তা পৌঁছে গিয়েছে সনাতনী ও বাঙ্গালীদের ঘরে ঘরে । ইতিমধ্যে প্রতিটি পুজা মন্ডপে কুমারেরা প্রতিমার মাটির কাজ সম্পন্ন করে ভাস্করেরা তাদের রং তুলির কাজ শুরু করেছে । যা আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবারের পূর্বে তা পূর্ণতা পাবে বলে জানিয়েছেন ভাস্কার ও পূজা কমিটি। অপরদিকে পূজাকে প্রাণবন্ত করতে বিভিন্ন মন্দির কমিটি আলোক সজ্জা, ধর্মীয় নাটক, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য,যাদু , নাগরদোলা,চক্রী,বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী ইত্যাদি এবং সর্বশেষ বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার উল্লেখযোগ্য পূজা মণ্ডপের মধ্যে চক্রাখালী মল্লিকের মোড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বটিয়াঘাটা বাজার সদরের নাট মন্দির,চক্রাখালী ও গজালমারী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, জলমাশ্বরী কালি মন্দির,গুপ্তমারী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, ছয়ঘরিয়া স্কুল সার্বজনীন দুর্গা মন্দির,সাচিবুনিয়া স্কুল ভিটা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈয়া বাজার দুর্গা মন্দির, পার-বটিয়াঘাটা বালিকা বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন দূর্গা মন্দির,বারোআড়িয়া বাজার মন্দির,ডেউয়াতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, জয়পুরহাট দূর্গা মন্দির, পুঁটিমারী ও মাথাভাঙ্গা দূর্গা মন্দির। আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার মহাবিজয়া উপলক্ষ্যে বটিয়াঘাটার বাজার সদর, জলমা ইউনিয়নের সরকারি জলমা-চক্রাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, পুঁটিমারী, কৈয়া ও পার-বটিয়াঘাটায় বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে । অপরদিকে দূর্গা পূজায় যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে । প্রতিটা মন্দির কমিটির সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য, আনসার ভিডিপি সদস্য, থানা, জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি , বিজিবি র্যাব ও সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহলরত থাকবে বলে জানা গেছে । এব্যাপারে চক্রাখালী মল্লিকের মোড় মন্দিরের ভাস্কার কয়রা উপজেলার হড্ডা এলাকার শুভেন্দু মন্ডল বলেন, আমি এবছর ৫ টি মন্দিরে ৩ মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি । বর্তমানে রং তুলির কাজ চলছে ,যা আগামী শুক্রবার মহাষষ্ঠীর আগে সম্পন্ন হবে । তিনি আরো বলেন, আমি এ বছর ৫ টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করছি । আমার সকল খরচ-খরছা বাদে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে ।এব্যাপারে মল্লিকের মোড় সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটি সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ টিকাদার বাবু বলেন, আমরা পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি । আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশে মন্দির ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আশাকরছি প্রতি বছরের ন্যায় বটিয়াঘাটা সকল পূজা মন্দিরে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূজা সম্পন্ন হবে । এব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মারুফ হোসেন বলেন, আমাদের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা সুন্দর ও সার্থক ভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্ৰহন করা হয়েছে। আশা করি প্রতি বছর ন্যায় এবছরও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হবে । এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটির নিকট সরকারি ভাবে বরাদ্দ ৬'শ কেজি এর ডিও লিটার হস্তান্তর করা হয়েছে । আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন । সব মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বটিয়াঘাটায় পূজাকে ঘিরে ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে ।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।