চরফ্যাসন উপজেলা ওলামালীগ নেতা নুরনবী ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৩ কর্মচারীর গায়েবী এমপিও
চরফ্যাসন উপজেলা ওলামালীগ নেতা নুরনবী
৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৩ কর্মচারীর গায়েবী এমপিও
মোঃ নুর হোসেন,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও উপজেলা ওলামা লীগ সহসভাপতি মোঃ নূরনবী কর্তৃক ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিন কর্মচারীকে গায়েবীভাবে এমপিও ভুক্তি করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
মাদ্রাসার কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এর প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে মাদরাসার সুপার তিন জন কর্মচারীর নিয়োগ ফাইল সৃজন করে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মাধ্যমে চলতি মাসের এমপিওতে তাদেরকে এমপিওভুক্তি করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারী ও কমিটির সদস্যগণ অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে মাদরাসা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আজ প্রকাশিত মে/ ২০২৬ এর এমপিও পর্যালোচনা করে দেখা যায় গবেষনাগার পদে আতিকুর রহমান যার ইনডেক্স নং ০০৮১৩৬৩ ল্যাব সহকারী পদে সায়মা বেগম যার ইনডেক্স নং ০০৮১৩৬৪ ও আয়া পদে নিছা বেগম যার ইনডেক্স নং ০০৮১১৪৬১ গায়েবীভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। যাতে করে শিক্ষক কর্মচারী ও কমিটির সদস্যদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
মাদ্রাসা শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সায়েম জানান ভুয়া এমপিওভুক্ত তিন কর্মচারীদেরকে তারা কখনো দেখেনি তাদের কোন নিয়োগ হয়নি। সকল নিয়োগে মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মহোদয়ের প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও সবকিছুই জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে।
মাদ্রাসাটির সহ-সুপার মমিনুল ইসলাম জানান অত্র মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন যাবত এডহক কমিটি কর্তক পরিচালিত এডহক কমিটি কোন নিয়োগ দিতে পারে না। মাদ্রাসায় যে তিনজন কর্মচারী এমপিওভুক্ত হয়েছে মর্মে মে মাসের এমপিওতে তাদের নাম দেখা যাচ্ছে উক্ত কর্মচারীদের নিয়োগ সম্পূর্ণ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সুপার করেছেন। তাদের নিয়োগের সাথে প্রতিষ্ঠানের কোন সম্পর্ক নাই।
জনবল কাঠামো মোতাবেক ল্যাব অপারেটর ও ল্যাব সহকারী/ গবেষণাগার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখা চলমান ও কম্পিউটার ল্যাব থাকার শর্ত বিদ্যমান থাকলেও অত্র মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখা নেই, নেই কোন সরকারি ল্যাব।
মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল আহাদ মিয়া জানান অত্র মাদরাসায় কর্মচারী নিয়োগের কোন সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়নি।
মাদ্রাসার প্রধান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রেজুলেশন লিখে নিয়ে আসে আমি স্বাক্ষর প্রদান করি তবে এ কর্মচারীদের নিয়োগের কোন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার অথবা মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে কোন প্রতিনিধি মাদ্রাসায় আসেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের জানান আমি উক্ত মাদ্রাসার কোন কর্মচারী নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলাম না এবং কর্মচারীর কোন নিয়োগ বোর্ডের আমি স্বাক্ষর দেইনি। মাদ্রাসার প্রধান জাল জালিয়াতি করে থাকলে মাদ্রাসা অধিদপ্তর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবে।
গায়েবীভাবে এমপিওভুক্ত হওয়া আতিকুর রহমান সায়মা বেগম ও নিছা বেগমের সাথে আলাপ কালে তারা জানান,এক বছর আগেই তারা মাদ্রাসার প্রধান কে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল খরচ ও মাদরাসার উন্নয়নের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ৩০ লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অথবা মাদ্রাসায় তাদের নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
তবে আরো এক বছর পূর্বে তাদের বেতন ভাতা হওয়ার কথা থাকলেও সুপারের কারণে এক বছর পরে তাদের এমপিও হয়েছে বলে তারা জানান।
মাদ্রাসার সুপার ও উপজেলা আওয়ামী ওলামালীগ সহ-সভাপতি নূরনবী জানান মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও কমিটির যথাযথ স্বাক্ষরের মাধ্যমেই এই তিন কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে অনলাইনে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে কাগজপত্র প্রেরণের পর মাদাসা অধিদপ্তর তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ থাকায় চলতি বছরের মে মাসে তাদেরকে এমপিও ভুক্ত করে।
জনবল কাঠামো মোতাবেক এদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদ্রাসাটির নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখা ও সরকারি ল্যাব থাকার শর্ত থাকলেও এসব না থাকা অবস্থায় তিনি এ কর্মচারীদের কিভাবে নিয়োগ দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন মাদ্রাসা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এগুলো জেনেই নিয়োগ দিয়েছেন।
অপরদিকে নিয়োগকৃতদের থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে মাদ্রাসার উন্নয়ন বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা নিয়োগের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক অর্থ ও এমপিও যাচাই এবং অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শুকুর আলম মজুমদার জানান বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি তদন্তপূর্বক অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
মাদ্রাসা অধিদপ্তরের আইন শাখার সহকারি পরিচালক ইসমাইল হোসেন জানান এই জালিয়াতির বিষয়টি আমরা অবহিত হয়েছি। অতি দ্রুত তদন্তপূর্বক জালিয়াতি মুল হোতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদ্রাসাটিতে এই তিনজন কর্মচারীর ভুয়া নিয়োগ হয়েছে মর্মে দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় চাওর হলেও মাদরাসা অধিদপ্তরের কর্তৃক সারাদেশের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দিতে বিলম্ব হওয়ায় তখন বিষয়টির সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আজ অধিদপ্তর কর্তৃক মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারীদের মে ও জুন মাসের বেতন ছাড় করা হলে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এমপিওতে তাদের নাম উল্লেখ থাকায় গায়েবী নিয়োগের বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষক কমিটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনার ঝড় সৃষ্টি করে।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



