চরফ্যাশনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের জমিতে উন্নয়নকাজে বাধা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

চরফ্যাশনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের জমিতে উন্নয়নকাজে বাধা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ

7 May 2026, 9:38:41

চরফ্যাশনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের জমিতে উন্নয়নকাজে বাধা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ

মোঃ নুর হোসেন,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ

চরফ্যাশনে কোস্ট ফাউন্ডেশন তাদের বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনার সময় একটি পক্ষের বাধা, দখলচেষ্টা এবং অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার দুপরে কোস্টট্রাস্ট কুসুমবাগস্থ চরফ্যাশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের গণস্বাস্থ্য সংলগ্ন পশ্চিম পাশে অবস্থিত ৬৯ শতাংশ জমি কোস্ট ফাউন্ডেশন ২০২১ সালে চার্চ অব বাংলাদেশের কাছ থেকে বৈধভাবে ৩২ লাখ টাকায় ক্রয় করে। বর্তমানে ওই জমিতে ‘কোস্ট রিসোর্স ও বালাইনাশক প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের দাবি, গত ১৮ এপ্রিল উন্নয়নকাজ শুরুর পর থেকেই একটি পক্ষ নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি, জমি দখলের চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। গত ৬ মে ওই পক্ষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করে বলে জানানো হয়।সংস্থাটি আরও জানায়, এ ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল দক্ষিণ আইচা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রতিপক্ষ জমির মালিকানার পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট ফাউন্ডেশন জানায়, জমি ক্রয়সংক্রান্ত সকল বৈধ দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, সার্ভেয়ার নকশা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি সংস্থার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রশাসনিক নীতিমালার কারণে এসব নথির অনুলিপি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আগ্রহী ব্যক্তি চাইলে চরফ্যাশন কার্যালয়ে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিদর্শন করতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কোস্ট ফাউন্ডেশন ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৩ বছর ধরে এ এলাকার কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট জমির তত্ত্বাবধানে ছিল। অতীতে চার্চ অব বাংলাদেশের অবশিষ্ট জমি স্থানীয় বসবাসরত পরিবারগুলোর নামে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে সায়েদ ফরাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কলোনির পুকুরের মাছ, গাছপালা ও ভিটি বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন তিনি। আঞ্চলিক টিম লিডার মোসাম্মৎ রাশিদা বেগম লিখিত বক্তব্যবে অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সায়েদ ফরাজী, তার আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার কিছু ব্যক্তি কোস্টের নারী সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য কোস্টের সীমানার মধ্যে প্রবেশ করে সেখানে দোকানপাট নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা।সংস্থার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. জহির উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত পক্ষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু তুলে সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করে আসছে এবং তাদের কাছে কোনো বৈধ মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র নেই বলে দাবি করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সমন্বয়কারী খোকন চন্দ্র শীল ও মো. মাকসুদুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কোস্ট ফাউন্ডেশন উন্নয়নকাজে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপপ্রচার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সায়েদ ফরাজীর সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবি করেন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর স্থানীয় হতদরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষের বসবাসের জন্য ওই জায়গাটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, বর্তমানে কোস্ট ফাউন্ডেশন সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। তবে কোস্ট ফাউন্ডেশন এ অভিযোগ অস্বীকার করে জমিটির বৈধ মালিকানা তাদের রয়েছে বলে দাবি করেছে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: