মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা,স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ রোগী ও স্বজনরা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভুয়া ডাক্তারের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের প্রবেশপথ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে সক্রিয় এসব দালাল রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিতে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের প্রধান ফটক ও জরুরি বিভাগের সামনে ১০-১২ জনের একটি চক্র ঘোরাফেরা করে। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের টার্গেট করে তারা। “এখানে ডাক্তার নাই”, “টেস্ট হয় না”, “সরকারি ওষুধে কাজ হবে না”— এমন কথা বলে রোগীদের বাইরে নিয়ে যায়।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া পরীক্ষার জন্য বাইরে ২-৩ গুণ বেশি টাকা গুনতে হয়েছে।
সাঘাটা থেকে আসা রোগীর স্বজন রহিমা বেগম বলেন, “মেয়ের জ্বর নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে এক লোক বলে, এই টেস্ট এখানে হয় না। পরে ১২০০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে করাইছি। পরে জানলাম হাসপাতালেই হয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র এখানে সক্রিয়। এদের সাথে বাইরের কিছু ক্লিনিকের কমিশন ভিত্তিক যোগসাজশ রয়েছে। দালালদের দৌরাত্ম্যে হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। দালালদের তালিকা করে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
এ অবস্থায় দ্রুত দালালবিরোধী অভিযান পরিচালনা, হাসপাতালের প্রতিটি পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নজরদারি বৃদ্ধি, প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
জনগণের চিকিৎসা সেবার স্থানকে দালালমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।