গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য : সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত করে রোগী নেওয়া হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য : সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত করে রোগী নেওয়া হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে
মোঃ মিঠু মিয়া, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে এবং ফুসলিয়ে পাশের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা, অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
সদর উপজেলার বাদিয়াখালী এলাকা থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আহত অবস্থায় রোগীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর হাসপাতালের গেটে থাকা এক ব্যক্তি তাদের জানান যে, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট। পরে ওই ব্যক্তির কথামতো হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে ও পায়ে প্লাস্টার করাতে তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, সদর হাসপাতালে একই ধরনের সেবা মাত্র ১৫০ টাকায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনও সচল ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক নারী কর্মচারী জানান, দালাল চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু ওয়ার্ডবয়, আয়া ও আনসার সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই রোগীদের তথ্য দালালদের কাছে পৌঁছে যায়। এমনকি ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশনের কথা বলে কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দালালদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। কিন্তু দালাল চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতাল চত্বরে তাদের স্থায়ীভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



